বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা (আন্তঃসীমান্ত): শুরু থেকে শেষ, ধাপে ধাপে

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/পারিবারিক

বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা (আন্তঃসীমান্ত): শুরু থেকে শেষ, ধাপে ধাপে

এক অভিভাবক যখন অপর অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বা হেফাজতের আদেশ অমান্য করে সন্তানকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন, কিংবা বাংলাদেশ থেকে বাইরে নিয়ে যান, তখন আন্তঃসীমান্ত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা দেখা দেয়। বাংলাদেশ ১৯৮০ সালের হেগ শিশু অপহরণ কনভেনশনের (Hague Child Abduction Convention) পক্ষ নয়, তাই শিশুকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর কোনো সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি এখানে নেই।

যে অভিভাবকের কাছ থেকে শিশুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাঁকে হাইকোর্ট বিভাগে হেবিয়াস কর্পাস (habeas corpus) এবং পারিবারিক আদালতে (Family Court) হেফাজতের মামলা করতে হয়, যেখানে শিশুর কল্যাণই সর্বপ্রধান বিবেচ্য। আদালত ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে শিশুর দেশত্যাগ ঠেকাতে পারেন, বিদেশি হেফাজত আদেশকে প্রাসঙ্গিক কিন্তু বাধ্যতামূলক নয় বলে গণ্য করেন, এবং মামলাটি আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
প্রথম পরামর্শ: শিশু কোন দিকে যাচ্ছে?
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৫টি ধাপ · ৭টি বিকল্প পথ · ৮টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
জরুরি ভিত্তিতে শিশুকে হাজির করা ও অন্তর্বর্তী হেফাজতের আদেশের জন্য হাইকোর্ট বিভাগ (সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ বা ফৌজদারি…
মূল আইন
বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২, ১০৩, ১০৫ ও ১১০; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৯১; অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০ (Guardians…
সাধারণ সময়কাল
বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও শিশুকে হাজির করা: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ। হেবিয়াস কর্পাসের সিদ্ধান্ত: প্রায় ১-৬ মাস।…
কে মামলা করতে পারেন
বাংলাদেশি বা বিদেশি যেকোনো অভিভাবক, ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী অধিকারী দাদা-দাদি, নানা-নানি বা অন্য আত্মীয়, কিংবা শিশুর…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৫টি ধাপ

বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা: ধাপ ১, প্রথম পরামর্শ: শিশু কোন দিকে যাচ্ছে?
    ধাপ ১ · জরুরি প্রথম পদক্ষেপ

    প্রথম পরামর্শ: শিশু কোন দিকে যাচ্ছে?

    আইনজীবী প্রথমে ঘটনাগুলো স্পষ্ট করেন: শিশুকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে, নাকি বাইরে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে; শিশুর নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট; শিশু অভ্যাসগতভাবে কোথায় থাকত; এবং কোনো বিদেশি আদালত হেফাজতের আদেশ দিয়েছেন কি না। বাংলাদেশ ১৯৮০ সালের হেগ শিশু অপহরণ কনভেনশনের পক্ষ নয়, তাই এখানে কোনো সেন্ট্রাল অথরিটি নেই এবং সংক্ষিপ্ত ফেরতের আদেশও নেই। বরং বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা সাধারণ হেফাজত আইনে নিষ্পত্তি হয়, যেখানে শিশুর ব্যক্তিগত আইনের পাশাপাশি শিশুর কল্যাণই সর্বপ্রধান বিবেচ্য।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ দিন · আইন: অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ৭ ও ১৭; আবু বকর সিদ্দিক বনাম এস.এম.এ. বকর, ৩৮ ডিএলআর (এডি) ১০৬ (কল্যাণই সর্বপ্রধান) · কাগজপত্র: শিশুর পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধন সনদ, বিবাহ সনদ (কাবিননামা), বিদেশি হেফাজত বা সুরক্ষা আদেশ, শিশুকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনার সময়ক্রম

    পরামর্শ: কয়েক দিনের মধ্যেই পদক্ষেপ নিন। শিশু নতুন বাড়িতে যত বেশি দিন থিতু হয়, কল্যাণের বিচারে বর্তমান অবস্থা বহাল রাখার দিকে পাল্লা তত ভারী হয়।

  2. বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা: ধাপ ২, শিশুর দেশত্যাগ ঠেকান
    ধাপ ২ · জরুরি প্রথম পদক্ষেপ

    শিশুর দেশত্যাগ ঠেকান

    শিশুকে বাংলাদেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলে আইনজীবী জরুরি ভিত্তিতে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ চান, হয় পারিবারিক আদালত থেকে অন্তর্বর্তী আদেশ হিসেবে, নয়তো হাইকোর্ট বিভাগ থেকে হেবিয়াস কর্পাস বা রিট পিটিশনে। শিশুর নাম, পাসপোর্ট নম্বর ও ছবিসহ আদেশটি বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের স্পেশাল ব্রাঞ্চ ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। আদালত কর্তৃক নিযুক্ত বা ঘোষিত অভিভাবক আদালতের অনুমতি ছাড়া শিশুকে আদালতের এখতিয়ারের বাইরে নিতে পারেন না। ইমিগ্রেশন কেবল সেই আদেশেই ব্যবস্থা নেয়, যা তারা হাতে পেয়েছে।

    কোথায়: ইমিগ্রেশন পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (বিমানবন্দর ও স্থলবন্দর) · সময়: ১-৭ দিন · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২১ (অন্তর্বর্তী আদেশ); অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ২৬; বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ · কাগজপত্র: নিষেধাজ্ঞা আদেশের সার্টিফায়েড কপি, পাসপোর্টের বিবরণ ও ছবিসহ স্পেশাল ব্রাঞ্চে চিঠি, প্রাপ্তিস্বীকারের সিল

    পরামর্শ: শিশুর বিদেশি ও বাংলাদেশি সব পাসপোর্টের তথ্য ইমিগ্রেশনকে দিন। দ্বৈত নাগরিক শিশুকে প্রায়ই দ্বিতীয় পাসপোর্টে সরিয়ে নেওয়া হয়।

  3. বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা: ধাপ ৩, বিদেশি আদেশ ও কাগজপত্র সত্যায়ন করুন
    ধাপ ৩ · জরুরি প্রথম পদক্ষেপ

    বিদেশি আদেশ ও কাগজপত্র সত্যায়ন করুন

    বিদেশি হেফাজত আদেশ, তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি কিংবা সুরক্ষা আদেশ শিশুর আগের পরিস্থিতির সাক্ষ্য, কিন্তু তা বাংলাদেশে আপনা-আপনি বলবৎযোগ্য নয়। এর ওপর নির্ভর করতে হলে সার্টিফায়েড কপি ও সত্যায়িত ইংরেজি অনুবাদ থাকা উচিত। বাংলাদেশ ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে কার্যকরভাবে হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে (Hague Apostille Convention) যোগ দিয়েছে, তাই অন্য সদস্য রাষ্ট্রের কাগজে সাধারণত মিশনের সত্যায়নের বদলে অ্যাপোস্টিল (apostille) দিলেই চলে। কয়েকটি রাষ্ট্র বাংলাদেশের যোগদানে আপত্তি জানিয়েছে; তাদের ক্ষেত্রে এখনো বাংলাদেশ মিশনের সত্যায়ন লাগে। বিদেশের স্কুল, চিকিৎসা ও বসবাসের রেকর্ড দেখায় শিশু অভ্যাসগতভাবে কোথায় থাকত এবং কীভাবে তার দেখাশোনা হতো।

    বিদেশি অভিভাবকের বিদেশি আইনজীবী প্রায়ই এগুলো দ্রুত সংগ্রহ করতে পারেন।

    কোথায়: বিদেশে বাংলাদেশ মিশন / বিদেশি আদালত · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC), ১৯০৮-এর ধারা ১৩ (বিদেশি রায়ের চূড়ান্ততা, সাদৃশ্য অনুসারে); সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৭৮ ও ৮৬ (বিদেশি সরকারি দলিলের প্রমাণ) · কাগজপত্র: বিদেশি আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি, মিশনের সত্যায়ন বা অ্যাপোস্টিল, সত্যায়িত অনুবাদ, স্কুল, চিকিৎসা ও বসবাসের রেকর্ড

    পরামর্শ: প্রথম দিনেই বিদেশে সত্যায়নের কাজ শুরু করুন। সত্যায়নহীন কপিতে নিয়মিতই আপত্তি ওঠে।

  4. বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা: ধাপ ৪, হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দায়ের করুন
    ধাপ ৪ · হাইকোর্ট বিভাগে হেবিয়াস কর্পাস

    হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দায়ের করুন

    অপর অভিভাবক বা আত্মীয়রা শিশুকে এমনভাবে আটকে রাখলে, যা আবেদনকারীর মতে বেআইনি, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ) অথবা ব্যক্তিগত হেফাজতে আটক রাখার বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯১-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে পিটিশন দায়ের করা যায়। পিটিশনে বাবা-মায়ের সম্পর্ক, শিশুর ইতিহাস, তাকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা, কোনো বিদেশি আদেশ থাকলে তা, এবং শিশুর কল্যাণের জন্য কেন হেফাজত বদলানো দরকার, তা উল্লেখ করা হয়। এটি হলফনামা দিয়ে সত্যায়িত হয় এবং হেবিয়াস কর্পাস বিষয়ের শুনানি করেন এমন বেঞ্চে উপস্থাপন (মোশন) করা হয়।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ২-৭ দিন · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৯১(১)(খ) · কাগজপত্র: হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন, শপথকৃত হলফনামা, সত্যায়িত বিদেশি আদেশ, ওকালতনামা

    পরামর্শ: বিদেশি অভিভাবক ঢাকায় হলফনামা সম্পাদন করতে পারেন বা এখানকার কোনো আত্মীয়কে ক্ষমতা দিতে পারেন, তবে শুনানিতে নিজে উপস্থিত থাকার পরিকল্পনা রাখা উচিত।

  5. ধাপ ৫: মোশন শুনানি ও শিশুকে হাজির করার আদেশ
    ধাপ ৫ · হাইকোর্ট বিভাগে হেবিয়াস কর্পাস

    মোশন শুনানি ও শিশুকে হাজির করার আদেশ

    মোশন শুনানিতে বেঞ্চ ঠিক করেন, শিশুকে কেন হাজির করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে প্রতিপক্ষদের প্রতি রুল জারি করা হবে কি না। সাধারণত প্রতিপক্ষ অভিভাবক ও পুলিশকে নির্ধারিত তারিখে, প্রায়ই কয়েক দিনের মধ্যে, শিশুকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই শুনানি পর্যন্ত বেঞ্চ শিশুকে বাংলাদেশ বা আদালতের এখতিয়ারের বাইরে নেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দিতে এবং পাসপোর্ট জমা রাখার নির্দেশ দিতে পারেন। বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলায় এই প্রাথমিক আদেশগুলো প্রায়ই নির্ণায়ক হয়ে ওঠে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১ দিনের শুনানি; কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হাজির · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৯১ · কাগজপত্র: পিটিশন ও হলফনামা, হাজির করা ও বিদেশযাত্রা বিষয়ে প্রস্তাবিত আদেশ

    পরামর্শ: একই মোশনে পাসপোর্ট আদালতে জমা রাখার আবেদন করুন। এতে দ্বিতীয়বার সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি দূর হয়।

  6. ধাপ ৬: শিশুকে হাজির করা ও অন্তর্বর্তী হেফাজত
    ধাপ ৬ · হাইকোর্ট বিভাগে হেবিয়াস কর্পাস

    শিশুকে হাজির করা ও অন্তর্বর্তী হেফাজত

    শিশুকে আদালতে আনা হয়। বয়সে একটু বড় শিশুর ইচ্ছা ও অবস্থা জানতে বিচারপতিরা সাধারণত খাসকামরায় তার সঙ্গে একান্তে কথা বলেন, তারপর অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেন। এতে এক অভিভাবককে হেফাজত দিয়ে অপরজনের জন্য নির্দিষ্ট সাক্ষাতের সময় ঠিক করা, শিশুকে বাংলাদেশের বাইরে না নেওয়ার শর্ত দেওয়া, এবং বিদেশি অভিভাবক দেশে থাকাকালে সাক্ষাতের নির্দেশনা থাকতে পারে। বেঞ্চ শিশুর বয়স, লিঙ্গ, পড়াশোনা, স্বাস্থ্য, আবেগের বন্ধন এবং প্রতিটি পরিবার কতটা স্থিতিশীলতা দিতে পারে, তা বিবেচনা করেন। ব্যক্তিগত আইনে মায়ের হিজানতের (hizanat) অধিকার একটি জোরালো, তবে চূড়ান্ত নয় এমন বিষয়।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-২ শুনানির দিন · আইন: অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ১৭; মো. আবদুল জলিল বনাম শ্যারন লাইলী বেগম জলিল, ৫০ ডিএলআর (এডি) ৫৫ · কাগজপত্র: অন্তর্বর্তী হেফাজত ও সাক্ষাতের আদেশ, বাবা-মায়ের অঙ্গীকারনামা

    পরামর্শ: বিচারপতিদের সঙ্গে দেখা করার জন্য শিশুকে আলতোভাবে প্রস্তুত করুন। শিখিয়ে-পড়িয়ে আনা সহজেই ধরা পড়ে এবং তা যিনি করেন, সেই অভিভাবকের বিরুদ্ধে যায়।

  7. ধাপ ৭: শিশুর কল্যাণ নিয়ে হলফনামা
    ধাপ ৭ · হাইকোর্ট বিভাগে হেবিয়াস কর্পাস

    শিশুর কল্যাণ নিয়ে হলফনামা

    প্রতিপক্ষ অভিভাবক পাল্টা হলফনামা (affidavit-in-opposition) দাখিল করে ব্যাখ্যা দেন শিশু কেন বাংলাদেশে আছে এবং বর্তমান ব্যবস্থা কীভাবে শিশুর কল্যাণে কাজ করছে। পিটিশনার জবাব দেন। দুই পক্ষই স্কুলে ভর্তির কাগজ, চিকিৎসার রেকর্ড, বাসস্থানের বিবরণ এবং অপর অভিভাবকের যত্ন সম্পর্কে প্রমাণ সংযুক্ত করেন। আদালত সমাজসেবা কর্মকর্তার প্রতিবেদন চাইতে পারেন, কিংবা পড়াশোনা ও ভাষা নিয়ে নির্দেশনা দিতে পারেন। কোনো বিদেশি হেফাজত আদেশ থাকলে আদালত তা যান্ত্রিকভাবে কার্যকর না করে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে শিশুর বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করেন।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ মাস · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২; অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ১৭ · কাগজপত্র: পাল্টা হলফনামা, জবাবি হলফনামা, স্কুল ও চিকিৎসার রেকর্ড, সমাজসেবা প্রতিবেদন (যদি থাকে)

    পরামর্শ: শিশুর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেখান: স্কুল, বাসা, দেখাশোনার মানুষ এবং অপর অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ। আদালত অভিযোগ দেখে নয়, পরিকল্পনা দেখে সিদ্ধান্ত নেন।

  8. ধাপ ৮: হেবিয়াস কর্পাসের রায়
    ধাপ ৮ · হাইকোর্ট বিভাগে হেবিয়াস কর্পাস

    হেবিয়াস কর্পাসের রায়

    বেঞ্চ রুলটি চূড়ান্ত (absolute) করেন বা খারিজ করেন, এবং সাক্ষাৎ ও বিদেশযাত্রার বিধিনিষেধসহ আপাতত কে হেফাজত পাবেন, তা ঠিক করেন। দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিয়ে বিতর্কিত প্রশ্নে পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য দরকার বলে হাইকোর্ট বিভাগ প্রায়ই চূড়ান্ত হেফাজতের প্রশ্নটি পারিবারিক আদালতের ওপর ছেড়ে দেন। এক জাপানি মায়ের মামলায় (রিট পিটিশন নং ৬৫৯২/২০২১) হাইকোর্ট বিভাগ ২১ নভেম্বর ২০২১ তারিখে দুই কন্যার হেফাজত বাবাকে দেন, মায়ের জন্য নির্দিষ্ট সাক্ষাতের ব্যবস্থা রেখে। পরে আপিল বিভাগ সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: দায়েরের পর থেকে ১-৬ মাস · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৯১ · কাগজপত্র: রায় ও আদেশ, সার্টিফায়েড কপি

    পরামর্শ: সঙ্গে সঙ্গে সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন। আপিল বিভাগে লিভ পিটিশনের সময় রায়ের দিন থেকেই গণনা শুরু হয়।

  9. ধাপ ৯: মধ্যস্থতা ও হেফাজতের মামলা দায়ের
    ধাপ ৯ · পারিবারিক আদালতে হেফাজতের মামলা

    মধ্যস্থতা ও হেফাজতের মামলা দায়ের

    প্রজ্ঞাপিত জেলাগুলোতে হেফাজত ও অভিভাবকত্বের বিরোধ প্রথমে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতায় যেতে হয়, এবং মামলার সঙ্গে সেই প্রতিবেদন দাখিল করতে হয়। এরপর অভিভাবক পারিবারিক আদালতে অভিভাবকত্ব ও হেফাজতের মামলা করেন। অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের উদ্দেশ্যে পারিবারিক আদালতকে জেলা আদালত হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং শিশু সাধারণত যেখানে বসবাস করে সেখানে মামলা করতে হয়। অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের অধীনে মামলা হলে সেই আইনের কার্যপদ্ধতি প্রযোজ্য হয় (ধারা ২৭(১))। বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলায় শিশুকে সম্প্রতি এখানে আনা হলে শিশু সাধারণত কোথায় বসবাস করে, সেটিই বিতর্কের বিষয় হতে পারে, তাই আরজিতে বিষয়টি সরাসরি তুলে ধরা উচিত।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১খ ও ২১গ (২০২৬ সালে সংযোজিত); পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫(ঙ), ২৫ ও ২৭; অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ৯(১) · কাগজপত্র: মধ্যস্থতা প্রতিবেদন, সত্যায়িত বিদেশি কাগজপত্রসহ আরজি, ২০০ টাকার কোর্ট ফি

    পরামর্শ: বিদেশি অভিভাবকের উচিত সমন পাওয়ার জন্য একটি বাংলাদেশি ঠিকানা ও একটি ই-মেইল ঠিকানা দেওয়া; আইনে এখন ই-মেইলে সমন পাঠানোর সুযোগ আছে।

  10. ধাপ ১০: অন্তর্বর্তী হেফাজত, সাক্ষাৎ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা
    ধাপ ১০ · পারিবারিক আদালতে হেফাজতের মামলা

    অন্তর্বর্তী হেফাজত, সাক্ষাৎ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

    পারিবারিক আদালত যেকোনো পর্যায়ে অন্তর্বর্তী আদেশ দিতে পারেন, যেমন অন্তর্বর্তী হেফাজত, সাক্ষাৎ এবং শিশুকে বাংলাদেশের বাইরে না নেওয়ার আদেশ। হাইকোর্ট বিভাগ বা আপিল বিভাগের ইতিমধ্যে দেওয়া কোনো আদেশ থাকলে তা বিবেচনায় নিতে হয়। বিদেশি অভিভাবক পুরো সময় বাংলাদেশে থাকতে না পারলে আদালত তাঁর সফরের সময় নির্দিষ্ট মেয়াদে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে পারেন, আর ক্রমবর্ধমানভাবে দুই সফরের মাঝে ভিডিও কলের ব্যবস্থাও রাখছেন। অন্তর্বর্তী আদেশ ভঙ্গ করলে অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের অধীনে শিশুকে উদ্ধার করা হতে পারে।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: ২-৮ সপ্তাহ · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২১; অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ১২, ২৫ ও ২৬ · কাগজপত্র: অন্তর্বর্তী আবেদন, অন্তর্বর্তী আদেশ, সাক্ষাতের সময়সূচি

    পরামর্শ: স্কুলের সেশন ও বিদেশি অভিভাবকের যাতায়াতের সঙ্গে মিলিয়ে বাস্তবসম্মত সাক্ষাতের সময়সূচি প্রস্তাব করুন। আদালত কার্যকর পরিকল্পনাকেই প্রাধান্য দেন।

  11. ধাপ ১১: সাক্ষ্যগ্রহণ ও শিশুর বক্তব্য শোনা
    ধাপ ১১ · পারিবারিক আদালতে হেফাজতের মামলা

    সাক্ষ্যগ্রহণ ও শিশুর বক্তব্য শোনা

    লিখিত জবাব ও বিচার-পূর্ব শুনানির পর পক্ষগুলো সাক্ষ্য দেন, যা ক্রমেই হলফনামার মাধ্যমে হচ্ছে, এবং তাঁদের জেরা করা হয়। শিশু বুদ্ধিসম্মত পছন্দ জানানোর মতো বয়সী হলে আদালত তার কথা শোনেন, সাধারণত একান্তে। পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ দেওয়ানি কার্যবিধি ও সাক্ষ্য আইনের বেশির ভাগ প্রয়োগ বাদ দিয়েছে, তাই কার্যপদ্ধতি দেওয়ানি মামলার চেয়ে সহজ ও দ্রুত। শুনানি রুদ্ধদ্বার কক্ষে (in camera) হতে পারে, আর দুই পক্ষ চাইলে তা রুদ্ধদ্বারেই করতে হয়।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১১, ১২, ১৩ ও ২৮; অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ১৭(৩) · কাগজপত্র: সাক্ষ্যের হলফনামা, বিদেশি রেকর্ডসহ প্রদর্শনী (এক্সিবিট), শিশুর সাক্ষাৎকারের নোট

    পরামর্শ: বিদেশি অভিভাবক বাংলাদেশে থাকাকালেই যেন তাঁর সাক্ষ্য নেওয়া হয়, সে ব্যবস্থা করুন, অথবা শুরুতেই দূর থেকে (রিমোট) সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে জেনে নিন।

  12. ধাপ ১২: হেফাজত ও অভিভাবকত্বের রায়
    ধাপ ১২ · পারিবারিক আদালতে হেফাজতের মামলা

    হেফাজত ও অভিভাবকত্বের রায়

    পারিবারিক আদালত সাক্ষাৎ ও বিদেশযাত্রার শর্তসহ কে হেফাজত ও অভিভাবকত্ব পাবেন, তা নির্ধারণ করেন। আদালত শিশুর ব্যক্তিগত আইন প্রয়োগ করেন, মুসলিম শিশুর ক্ষেত্রে হিজানতসহ, তবে শিশুর কল্যাণই প্রাধান্য পায়। বিদেশি হেফাজত আদেশ, সরিয়ে নেওয়ার আগে শিশুর অভ্যাসগত বাসস্থান, সরিয়ে নেওয়ার ধরন এবং শিশুর ইচ্ছা, সবই বিবেচনা করা হয়। জাপানি মায়ের মামলায় আপিল বিভাগ বিষয়টি সেখানে পাঠানোর পর ঢাকার পারিবারিক আদালত ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে বাবার হেফাজতের মামলা খারিজ করেন; প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, জাপানে হেফাজতের বিষয়টি আগেই নিষ্পত্তি হওয়ায় এখতিয়ারের অভাবে।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: দায়েরের পর থেকে ৬-২৪ মাস · আইন: অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ৭ ও ১৭; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪ ও ১৭ · কাগজপত্র: রায়, ডিক্রি

    পরামর্শ: বিদেশযাত্রা, পাসপোর্ট ও ছুটির সময় সাক্ষাতের সুনির্দিষ্ট শর্তসহ ডিক্রি চান। অস্পষ্ট ডিক্রি নতুন বিরোধ ডেকে আনে।

  13. ধাপ ১৩: হেফাজতের ডিক্রি বাস্তবায়ন
    ধাপ ১৩ · ডিক্রি, বাস্তবায়ন ও বিদেশযাত্রা

    হেফাজতের ডিক্রি বাস্তবায়ন

    হেফাজতের ডিক্রি পারিবারিক আদালত এমনভাবে জারি (execution) করেন, যেন তা দেওয়ানি আদালতের ডিক্রি। শিশুকে অধিকারী ব্যক্তির হেফাজত থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে বা ফেরত না দেওয়া হলে আদালত শিশুকে ফেরত দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন এবং প্রয়োজনে আদেশ কার্যকর করতে শিশুকে আটকে রাখা ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করাতে পারেন। সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি থেকে গেলে আদালত পাসপোর্ট নিজের হেফাজতে রাখতে, জামানত বা অঙ্গীকারনামা চাইতে, এবং অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগ ঠেকাতে ইমিগ্রেশনকে নির্দেশ দিতে পারেন।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭(৬); অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ২৫ · কাগজপত্র: জারির আবেদন, ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, ইমিগ্রেশনের প্রতি আদেশ (প্রয়োজনে)

    পরামর্শ: আদেশে কোনো পরিবর্তন হলে ইমিগ্রেশনকে জানিয়ে রাখুন। পুরোনো বিদেশযাত্রা নিষেধাজ্ঞার কারণে কোনো অভিভাবক বিমানবন্দরে আটকে যেতে পারেন।

  14. ধাপ ১৪: শিশুকে নিয়ে আইনসম্মতভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ
    ধাপ ১৪ · ডিক্রি, বাস্তবায়ন ও বিদেশযাত্রা

    শিশুকে নিয়ে আইনসম্মতভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ

    কোনো অভিভাবককে শিশুকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে, যেমন অভ্যাসগত বাসস্থানের দেশে, তিনি দেশত্যাগের স্পষ্ট অনুমতিসহ আদালতের আদেশ নেন, এবং ইমিগ্রেশনে দেওয়া যেকোনো বিদেশযাত্রা নিষেধাজ্ঞা লিখিতভাবে প্রত্যাহার করা হয়। আদেশে অভিভাবককে অঙ্গীকারনামা দিতে বলা হতে পারে, যেমন সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া বা নির্দিষ্ট ছুটিতে শিশুকে ফেরত আনা। বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকলে সেখানকার অনুমতি লাগে। মার্চ ২০২৩-এ আপিল বিভাগ জাপানি মায়ের মামলায় শিশুদের দেশের বাইরে নেওয়ার বিষয়ে স্থিতাবস্থার আদেশ দেন।

    কোথায়: ইমিগ্রেশন পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (বিমানবন্দর ও স্থলবন্দর) · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ২৬; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২১; বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪ · কাগজপত্র: বিদেশযাত্রার অনুমতির আদেশ, বিদেশযাত্রা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চিঠি, অঙ্গীকারনামা

    পরামর্শ: বিমানবন্দরে বিদেশযাত্রার আদেশ ও প্রত্যাহারের চিঠির সার্টিফায়েড কপি সঙ্গে রাখুন।

  15. ধাপ ১৫: মিরর আদেশ ও সীমান্তের ওপারে সাক্ষাৎ
    ধাপ ১৫ · ডিক্রি, বাস্তবায়ন ও বিদেশযাত্রা

    মিরর আদেশ ও সীমান্তের ওপারে সাক্ষাৎ

    বাংলাদেশি হেফাজত ডিক্রিও বিদেশে আপনা-আপনি স্বীকৃত হয় না। যে অভিভাবক শিশুকে বিদেশে নিয়ে যান, কিংবা যিনি বাংলাদেশে থেকে যান, তাঁকে বিদেশি আদালতে ডিক্রিটি নিবন্ধন করাতে বা অনুরূপ আদেশ নিতে হতে পারে, যাতে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ একই শর্ত কার্যকর করে। সাক্ষাতের ব্যবস্থা, ছুটিতে ফেরত আসা ও পাসপোর্টের হেফাজত দুই আদেশেই লিখে রাখা উচিত। তাই বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা প্রায়ই সমান্তরাল কার্যধারায় শেষ হয়, যেখানে দুই অভিভাবকের আইনজীবীরা শর্তগুলো সমন্বয় করেন।

    কোথায়: বিদেশে বাংলাদেশ মিশন / বিদেশি আদালত · সময়: ১-৬ মাস · আইন: অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ৭ ও ১৭ · কাগজপত্র: সত্যায়িত অনুবাদসহ বাংলাদেশি ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, বিদেশি মিরর আদেশ

    পরামর্শ: বাংলাদেশি ডিক্রি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই মিরর আদেশের ভাষা নিয়ে একমত হোন, যাতে দুই আদেশ মিলে যায়।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · পারিবারিক আদালত → পারিবারিক আপিল আদালত

কোনো অভিভাবক পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে কী হয়?

  1. 1
    পারিবারিক আপিল আদালত (জেলা জজ)

    পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল

    পারিবারিক আদালতের যেকোনো রায়, ডিক্রি বা আদেশ, অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের অধীনে জেলা আদালত হিসেবে দেওয়া আদেশসহ, নকল তোলার সময় বাদ দিয়ে ত্রিশ দিনের মধ্যে পারিবারিক আপিল আদালতে, অর্থাৎ জেলা জজের কাছে আপিলযোগ্য। জেলা জজ আপিলটি অতিরিক্ত জেলা জজ বা যুগ্ম জেলা জজের কাছে বদলি করতে পারেন। আপিলে ঘটনা ও আইন দুই দিকই নতুন করে শোনা হয়। জাপানি মায়ের মামলায় জেলা জজ জুলাই ২০২৩-এ বাবার আপিল খারিজ করেন।

    ৬-১২ মাসপারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৮, ১৯ ও ২৭(২)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পারিবারিক আপিল আদালত হেফাজতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন, পরিবর্তন করেন বা উল্টে দেন।

রিভিশন · পারিবারিক আপিল আদালত → হাইকোর্ট বিভাগ

হাইকোর্ট বিভাগ কি আপিলের সিদ্ধান্ত রিভিশনে দেখতে পারেন?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন

    পারিবারিক আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আর কোনো আপিল চলে না, তবে বাস্তবে হাইকোর্ট বিভাগ এর হেফাজত-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশন গ্রহণ করেন। আদালত রুল জারি করেন, অন্তর্বর্তী হেফাজত বা বিদেশযাত্রার আদেশ দিতে পারেন, এবং খতিয়ে দেখেন শিশুর কল্যাণ বা কোনো বিদেশি আদেশ উপেক্ষা করার মতো কোনো আইনগত ভুলের কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে কি না।

    ৬-২৪ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২০

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিশন খারিজ হয়, অথবা সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয় বা নতুন সিদ্ধান্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

রিভিউ · পারিবারিক আদালত → পারিবারিক আদালত

হেফাজতের আদেশ কি পরে পুনর্বিবেচনা করা যায়?

  1. 1
    পারিবারিক আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ)

    পরিস্থিতি বদলালে পুনর্বিবেচনা

    পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ দেওয়ানি কার্যবিধির প্রয়োগ অনেকাংশে বাদ দিয়েছে, তাই আদেশ ৪৭-এর অধীনে আনুষ্ঠানিক রিভিউ এখানে সাধারণ পথ নয়। হেফাজতের আদেশ শিশুর কল্যাণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তাই নতুন ঘটনার ভিত্তিতে, যেমন অন্যত্র চলে যাওয়া, পুনর্বিবাহ, অবহেলা বা শিশুর বাড়ন্ত পরিপক্বতা, কোনো অভিভাবক হেফাজত, সাক্ষাৎ বা বিদেশযাত্রার শর্ত পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন। সুপ্রিম কোর্টে রিভিউয়ের পরিসর আরও সংকীর্ণ: আপিল বিভাগ ত্রিশ দিনের মধ্যে কেবল নথিতে স্পষ্ট ভুলের ক্ষেত্রে নিজের রায় রিভিউ করেন।

    ২-৮ মাসপারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৮অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ১২, ২৫ ও ৩৯বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: শিশুর বর্তমান কল্যাণের সঙ্গে মিলিয়ে আদেশ পরিবর্তন করা হয়, অথবা অপরিবর্তিত থাকে।

রেফারেন্স · হাইকোর্ট বিভাগ → হাইকোর্ট বিভাগ → পারিবারিক আদালত

হাইকোর্টের বিচারপতিরা একমত না হলে বা সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    তৃতীয় বিচারপতি, অথবা অনুচ্ছেদ ১১০-এর অধীনে মামলা প্রত্যাহার

    হেবিয়াস কর্পাস বেঞ্চের দুই বিচারপতি ভিন্ন ভিন্ন রায় দিলে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি তৃতীয় একজন বিচারপতির কাছে পাঠান, যাঁর মতামতেই নিষ্পত্তি হয়। পারিবারিক আদালত থেকে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩-এর অধীনে রেফারেন্স পাঠানো যায় না, কারণ ২০২৩ সালের আইন কার্যবিধির প্রয়োগ বাদ দিয়েছে। এর বদলে, হেফাজতের মামলায় কোনো উল্লেখযোগ্য সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠলে হাইকোর্ট বিভাগ মামলাটি প্রত্যাহার করে সেই প্রশ্নের সিদ্ধান্ত দিয়ে পারিবারিক আদালতে ফেরত পাঠাতে পারেন।

    ৩-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩)বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১০পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৮

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: তৃতীয় বিচারপতি অচলাবস্থা নিরসন করেন, অথবা হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পারিবারিক আদালত মামলা নিষ্পত্তি করেন।

রিমান্ড (ফেরত) · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ → পারিবারিক আদালত → পারিবারিক আপিল আদালত → হাইকোর্ট বিভাগ

আপিল বিভাগ হেফাজতের প্রশ্ন পারিবারিক আদালতে ফেরত পাঠালে কী হয়?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    আপিল বিভাগ পারিবারিক আদালতকে সিদ্ধান্ত দিতে নির্দেশ দেন

    আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের হেফাজত আদেশ বাতিল বা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাসহ পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ-তদন্তের জন্য বিরোধটি পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে, অর্থাৎ পারিবারিক আদালতে ফেরত পাঠাতে পারেন। জাপানি মায়ের মামলায় ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ আপিল বিভাগ আদেশ দেন যে পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই শিশু মায়ের কাছে থাকবে, বাবা দেখা করতে পারবেন, শিশুদের আদালতের এখতিয়ারের বাইরে নেওয়া যাবে না, এবং রায় পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে পারিবারিক আদালতকে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।

    লিভের সিদ্ধান্তের সঙ্গেই আদেশবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪
  2. 2
    পারিবারিক আপিল আদালত (জেলা জজ)

    নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত ও আবার ওপরে ওঠা

    এরপর পারিবারিক আদালত মামলার শুনানি করে সিদ্ধান্ত দেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ত্রিশ দিনের মধ্যে পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল হয়, সেখান থেকে হেরে যাওয়া অভিভাবক রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগে এবং লিভ নিয়ে আবার আপিল বিভাগে যেতে পারেন। জাপানি মায়ের মামলায় পারিবারিক আদালত জানুয়ারি ২০২৩-এ রায় দেন এবং জেলা জজ জুলাই ২০২৩-এ বাবার আপিল খারিজ করেন। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে দেওয়ানি রিভিশন নং ৩২৯৮/২০২৩-এ হাইকোর্ট বিভাগ বলেন যে বাংলাদেশের আদালতের এখতিয়ার আছে এবং বাবা-মায়ের মধ্যে হেফাজত ভাগ করে দেন।

    ১-৩ বছরপারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৮ ও ১৯দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিম্ন আদালতে পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে হেফাজতের প্রশ্ন নিষ্পত্তি হয়, এবং তা রিভিশন ও লিভের মাধ্যমে আবার ওপরে উঠতে পারে।

আপিলের অনুমতি · হাইকোর্ট বিভাগ → চেম্বার জজ → আপিল বিভাগ

মামলা কি আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে?

  1. 1
    চেম্বার জজ, আপিল বিভাগ

    চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশ বা স্থিতাবস্থা

    হাইকোর্ট বিভাগে হেরে যাওয়া অভিভাবক আপিল বিভাগের চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশ বা স্থিতাবস্থার আদেশ চাইতে পারেন, প্রায়ই লিভ পিটিশন বিচারাধীন থাকাকালে শিশুকে হস্তান্তর বা বিদেশে নেওয়া ঠেকাতে। চেম্বার জজ অন্তর্বর্তী নির্দেশনা দিতে, আবেদন নামঞ্জুর করতে বা বিষয়টি পূর্ণ আদালতে পাঠাতে পারেন।

    কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহআপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ৫ বিধি ২(২০) ও বিধি ৪আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২১ বিধি ১
  2. 2
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    আপিলের অনুমতির (লিভ) জন্য পিটিশন

    হেবিয়াস কর্পাস বা রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের ষাট দিনের মধ্যে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দাখিল করা হয়। কেবল উল্লেখযোগ্য আইনগত প্রশ্ন থাকলেই লিভ মঞ্জুর হয়, তবে হেফাজতের মামলায় আদালত প্রায়ই নিজেই বাস্তবসম্মত অন্তর্বর্তী নির্দেশনা দেন। মার্চ ২০২৩-এ সাত সদস্যের একটি বেঞ্চ জাপানি মায়ের মামলায় শিশুদের বাংলাদেশের বাইরে নেওয়ার বিষয়ে স্থিতাবস্থার আদেশ দেন।

    ৬ মাস-২ বছরবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ হেফাজত ও বিদেশযাত্রা নিয়ে সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা দেন, এবং সেই আদেশ সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।

বিকল্প পথ · পারিবারিক আদালত → বিদেশে মিশন

শিশুকে বাংলাদেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হলে কী হবে?

  1. 1
    বিদেশে বাংলাদেশ মিশন / বিদেশি আদালত

    বিদেশে কার্যধারা, সহায়ক হিসেবে বাংলাদেশি আদেশ

    বাংলাদেশের আদালত কোনো বিদেশি কর্তৃপক্ষকে শিশু ফেরত দিতে বাধ্য করতে পারেন না। বাংলাদেশ হেগ কনভেনশনের পক্ষ না হওয়ায়, কনভেনশনের পক্ষ এমন রাষ্ট্রও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কনভেনশনের ফেরত প্রক্রিয়া প্রয়োগ করবে না। যে অভিভাবকের কাছ থেকে শিশুকে সরানো হয়েছে, তাঁকে সাধারণত শিশু এখন যে দেশে আছে সেখানে হেফাজত বা ফেরতের কার্যধারা শুরু করতে হয়, এবং বাংলাদেশের কোনো হেফাজত বা নিষেধাজ্ঞা আদেশ থাকলে তা সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। বাংলাদেশ মিশন কনস্যুলার সহায়তা দিতে এবং কাগজপত্র সত্যায়ন করতে পারে।

    কয়েক মাস থেকে কয়েক বছরঅভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ২৬পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২১

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বিদেশি আদালত নিজ দেশের আইনে বিরোধ নিষ্পত্তি করেন, আর বাংলাদেশি আদেশগুলো সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা সাধারণত একসঙ্গে দুই পথে চলে। জরুরি পথটি শুরু হয় ওপর থেকে: হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যায়, যা শিশুকে হাজির করার আদেশ, অন্তর্বর্তী হেফাজতের আদেশ এবং বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। পূর্ণাঙ্গ হেফাজতের পথটি শুরু হয় শিশু সাধারণত যে জেলায় বসবাস করে সেখানকার পারিবারিক আদালতে, যার বিচারক একজন সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ; প্রজ্ঞাপিত এলাকায় আগে আইনগত সহায়তার মধ্যস্থতা লাগে। এখানে মামলার মূল্যমানের কোনো সীমা নেই। ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল যায় পারিবারিক আপিল আদালতে, অর্থাৎ জেলা জজের কাছে, যিনি ঘটনা ও আইন নতুন করে শোনেন।

সেখান থেকে আইনগত ভুলের প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগ দেওয়ানি রিভিশন শোনেন। হেবিয়াস কর্পাস ও রিভিশনের রায় আপিল বিভাগ কেবল লিভ সাপেক্ষে শোনেন, এবং প্রায়ই হেফাজত ও বিদেশযাত্রা নিয়ে বাস্তবসম্মত নির্দেশনা দেন। হেগ কনভেনশনের কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই। বিদেশি হেফাজত আদেশ সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়, আর প্রতিটি স্তরে শিশুর কল্যাণই ফলাফল নির্ধারণ করে।

  1. আপিল বিভাগচেম্বার জজ, আপিল বিভাগ · সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. আপিল পর্যায়পারিবারিক আপিল আদালত (জেলা জজ)
  4. প্রথম দফার আদালতপারিবারিক আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ)
  5. শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · ইমিগ্রেশন পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (বিমানবন্দর ও স্থলবন্দর) · বিদেশে বাংলাদেশ মিশন / বিদেশি আদালত
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

আপিল পর্যায়

জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

ঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।

সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।

প্রথম দফার আদালত

পারিবারিক আদালত, ঢাকা

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ / পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর অধীন বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজতের মামলা শুনানি করে।

পারিবারিক আদালত (Family Court) হলো সিভিল জজ (সিভিল জজ) আদালত। জাজশিপ পোর্টালে পারিবারিক আদালত-০৫, ঢাকা-র উল্লেখ আছে, এবং ২য় ও ৩য় অতিরিক্ত পারিবারিক আদালত নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনের নিচতলায় দেখানো হয়েছে; প্রতিটি নম্বরযুক্ত পারিবারিক আদালতের সঠিক কক্ষ প্রকাশিত নয়, তাই কার্যতালিকা দেখে নিন। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে পারিবারিক আদালত আছে।

শুরু · আদালতের বাইরে

আইনজীবীর চেম্বার

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

স্পেশাল ব্রাঞ্চ, বাংলাদেশ পুলিশ (ইমিগ্রেশন)

মালিবাগ, ঢাকা

বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে ইমিগ্রেশন পরিচালনা করে, বহির্গমনের "স্টপ লিস্ট" সংরক্ষণ করে, বিদেশিদের নিবন্ধন করে এবং পাসপোর্ট ও ভিসা যাচাই করে।

ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটটি সরকারি; সদর দপ্তরের রাস্তার ঠিকানা যাচাই করা হয়নি। কোনো ব্যক্তির বাংলাদেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া বা তা প্রত্যাহারের আদালতের আদেশ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্পেশাল ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন।

শুরু · আদালতের বাইরে

বিদেশে বাংলাদেশ মিশন (হাইকমিশন, দূতাবাস ও কনস্যুলেট)

আপনি যে দেশে থাকেন, সেই দেশের বাংলাদেশ মিশন (একক কোনো ঠিকানা নেই)

বিদেশে স্বাক্ষরিত মোক্তারনামা / পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, হলফনামা ও অন্যান্য দলিল সত্যায়ন করে, যাতে সেগুলো বাংলাদেশের আদালত বা অফিসে ব্যবহার করা যায়।

যে দেশে দলিলে স্বাক্ষর করবেন, সেই দেশের দায়িত্বে থাকা মিশন ব্যবহার করুন; মিশনের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আছে। বিদেশে সত্যায়িত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সাধারণত ব্যবহারের আগে বাংলাদেশে (আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে) স্ট্যাম্প ও প্রত্যয়ন করাতে হয়। সাক্ষাতের সময়, ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য মিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইট দেখুন।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

জরুরি প্রথম পদক্ষেপ
০.২৫–১ মাস
হাইকোর্ট বিভাগে হেবিয়াস কর্পাস
১–৬ মাস
পারিবারিক আদালতে হেফাজতের মামলা
৬–২৪ মাস
ডিক্রি, বাস্তবায়ন ও বিদেশযাত্রা
১–৬ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ৮.২৫–৩৭ মাস · সামগ্রিক: বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও শিশুকে হাজির করা: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ। হেবিয়াস কর্পাসের সিদ্ধান্ত: প্রায় ১-৬ মাস। পারিবারিক আদালতে হেফাজতের মামলা: প্রায় ৬-২৪ মাস। আপিল, রিভিশন ও আপিল বিভাগ: আরও ১-৪ বছর (ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা)
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

হেবিয়াস কর্পাস (Habeas corpus)
এমন আদেশ, যাতে কোনো ব্যক্তিকে, এখানে একটি শিশুকে, আদালতে হাজির করতে বলা হয়, যাতে আদালত ঠিক করতে পারেন শিশুকে আইনসম্মতভাবে রাখা হয়েছে কি না এবং কার কাছে।
হেগ শিশু অপহরণ কনভেনশন (Hague Child Abduction Convention)
১৯৮০ সালের চুক্তি, যা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অপহৃত শিশুকে দ্রুত ফেরতের ব্যবস্থা করে; বাংলাদেশ এর পক্ষ নয়।
কল্যাণ নীতি (Welfare principle)
এই নিয়ম যে হেফাজত ও অভিভাবকত্বের সিদ্ধান্তে শিশুর কল্যাণই সর্বপ্রধান বিবেচ্য।
হিজানত (Hizanat)
মুসলিম আইনে ছোট শিশুর হেফাজতের অধিকার, যা সাধারণত মায়ের থাকে, তবে শিশুর কল্যাণ সাপেক্ষে।
অভ্যাসগত বা সাধারণ বাসস্থান (Habitual or ordinary residence)
শিশু স্বাভাবিকভাবে যেখানে থাকত; এটি নির্ধারণ করে কোন পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার, এবং আন্তঃসীমান্ত বিরোধে এর গুরুত্ব অনেক।
বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা (Travel restraint)
শিশুকে বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ করে আদালতের আদেশ, যা বহির্গমন বন্দরে স্পেশাল ব্রাঞ্চ ইমিগ্রেশন কার্যকর করে।
পারিবারিক আপিল আদালত (Family Appellate Court)
জেলা জজের আদালত, যা ত্রিশ দিনের মধ্যে দায়ের করা পারিবারিক আদালতের আপিল শোনে।
মিরর আদেশ (Mirror order)
প্রথম দেশের হেফাজত আদেশের একই শর্তে দ্বিতীয় কোনো দেশে নেওয়া আদেশ, যাতে দুই দেশই তা কার্যকর করে।
প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা: সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশ কি হেগ শিশু অপহরণ কনভেনশনের সদস্য?
না। বাংলাদেশ ১৯৮০ সালের হেগ কনভেনশনে যোগ দেয়নি, তাই এখানে কোনো সেন্ট্রাল অথরিটি নেই এবং সংক্ষিপ্ত ফেরতের পদ্ধতিও নেই। বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা সাধারণ হেফাজত আইনে নিষ্পত্তি হয়, হাইকোর্ট বিভাগে হেবিয়াস কর্পাস ও পারিবারিক আদালতে হেফাজতের মামলার মাধ্যমে, যেখানে শিশুর কল্যাণই সর্বপ্রধান।
বিদেশি আদালতের হেফাজতের আদেশ কি বাংলাদেশের আদালত মানবে?
আপনা-আপনি নয়। বিদেশি হেফাজত আদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে ধরা হয়, বিশেষ করে শিশু অভ্যাসগতভাবে কোথায় থাকত সে বিষয়ে, তবে বাংলাদেশের আদালত শিশুর কল্যাণের ভিত্তিতে নতুন করে হেফাজতের সিদ্ধান্ত নেন। আদালত যাতে নির্ভর করতে পারেন, সে জন্য সত্যায়িত ইংরেজি অনুবাদসহ সার্টিফায়েড ও সত্যায়িত কপি আনুন।
আমার সন্তানকে বাংলাদেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া কীভাবে ঠেকাব?
বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে জরুরি ভিত্তিতে পারিবারিক আদালতে অন্তর্বর্তী আদেশের আবেদন করুন, অথবা হাইকোর্ট বিভাগে হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন করুন, এবং প্রতিটি পাসপোর্ট নম্বরসহ আদেশটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ ইমিগ্রেশনে পৌঁছে দিন। আদালত কর্তৃক নিযুক্ত বা ঘোষিত অভিভাবকও আদালতের অনুমতি ছাড়া শিশুকে সরিয়ে নিতে পারেন না।
বিদেশি বাবা বা মা কি বাংলাদেশে মামলা করতে পারেন?
হ্যাঁ। বিদেশি মা বা বাবা হাইকোর্ট বিভাগে হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন এবং পারিবারিক আদালতে হেফাজতের মামলা করতে পারেন। তাঁর উচিত সমন পাওয়ার জন্য একটি বাংলাদেশি ঠিকানা দেওয়া, বিদেশি কাগজপত্র সত্যায়ন করা, এবং গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে, বিশেষ করে যখন আদালত শিশুর সঙ্গে কথা বলেন, উপস্থিত থাকার পরিকল্পনা রাখা।
ছোট সন্তানের হেফাজত কি সবসময় মা-ই পান?
সবসময় নয়। মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে ছোট শিশুর ক্ষেত্রে মায়ের হিজানতের অধিকার জোরালো, কিন্তু আদালত বারবার বলেছেন যে কোনো বাঁধাধরা নিয়মের চেয়ে শিশুর কল্যাণই প্রাধান্য পায়। বয়স, স্বাস্থ্য, পড়াশোনা, শিশুর ইচ্ছা, সরিয়ে নেওয়ার ধরন এবং প্রতিটি পরিবারের স্থিতিশীলতা একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা কোন আদালতে হয়?
জরুরি ভিত্তিতে হাজির করা ও অন্তর্বর্তী হেফাজতের জন্য হেবিয়াস কর্পাস পিটিশনে হাইকোর্ট বিভাগ। চূড়ান্ত হেফাজত ও অভিভাবকত্বের জন্য শিশু সাধারণত যে জেলায় বসবাস করে সেখানকার পারিবারিক আদালত; পারিবারিক আপিল আদালত হিসেবে জেলা জজের কাছে আপিল এবং হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন। এভাবেই বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা ধাপে ধাপে এগোয়। আপিল বিভাগ কেবল লিভ সাপেক্ষে শুনানি করেন।
আমার সন্তানকে বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে নিয়ে গেলে কী করব?
বাংলাদেশি আদেশ দিয়ে কোনো বিদেশি কর্তৃপক্ষকে শিশু ফেরত দিতে বাধ্য করা যায় না। সাধারণত শিশু এখন যে দেশে আছে সেখানে কার্যধারা শুরু করতে হবে, এবং বাংলাদেশের কোনো হেফাজত বা নিষেধাজ্ঞা আদেশ থাকলে তা সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করতে হবে; কাগজপত্রের বিষয়ে বাংলাদেশ মিশন কনস্যুলার সহায়তা দিতে পারে।
বাংলাদেশে শিশু অপহরণ মামলা শেষ হতে কত সময় লাগে?
বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও হাজির করার আদেশ কয়েক দিনের মধ্যেই আসতে পারে। হেবিয়াস কর্পাসের সিদ্ধান্তে সাধারণত এক থেকে ছয় মাস, পারিবারিক আদালতের হেফাজতের মামলায় ছয় থেকে চব্বিশ মাস, আর আপিল, রিভিশন ও আপিল বিভাগে আরও এক থেকে চার বছর লাগে। এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা।

আইন ও উৎস

  1. Family Courts Act 2023 (Act No. 26 of 2023) — Laws of Bangladesh
  2. Guardians and Wards Act 1890 — Laws of Bangladesh
  3. Constitution of Bangladesh, Articles 102-105 and 110 — Laws of Bangladesh
  4. Code of Criminal Procedure 1898, s.491 — Laws of Bangladesh
  5. HCCH — Status table, Apostille Convention 1961 (Bangladesh: accession 29 July 2024, in force 30 March 2025)
  6. Conflict of Laws.net, 28 March 2025 — Child custody disputes across Japan and Bangladesh (case history; Bangladesh not a Hague Abduction Convention state)
  7. UNB — SC issues status quo: Japanese mother can't take the children abroad (March 2023)
  8. Prothom Alo — Japanese mom gets custody of daughters as father's appeal dismissed (July 2023)
  9. The Business Standard — The kids to stay with Japanese mother: SC
  10. Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988 — Supreme Court of Bangladesh

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Call the Dhaka office+880 1708 000660WhatsApp · message usMessage our team
Message TRW on WhatsApp