বাংলাদেশে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রক্রিয়া: শুরু থেকে শেষ, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রক্রিয়া এখন চলে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী। এই আইন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-কে ২১ মে ২০২৫ তারিখ থেকে কার্যকর করে পুনঃপ্রণয়ন করেছে এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ রহিত করেছে। মামলা শুরু হয় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির এজাহার (FIR) বা নালিশের মাধ্যমে; পুলিশ ডিজিটাল ফরেনসিক সহায়তা নিয়ে তদন্ত করে, আর বিচার করেন দায়রা জজ পদমর্যাদার একটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল।
রহিতকরণের ফলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ ও সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর অধীন বক্তব্য-সংক্রান্ত পুরোনো মামলার বেশিরভাগই বাতিল হয়ে গেছে, এবং বর্তমানে সাইবার ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় হাইকোর্ট বিভাগে।
- কোথা থেকে শুরু
- থানা বা পুলিশের সাইবার ইউনিট (এজাহার), অথবা সরাসরি সাইবার ট্রাইব্যুনাল (পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করলে হলফনামাসহ নালিশ)
- মূল আইন
- সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ৮১ নং আইন, ২০২৬ সালের ৯৯ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর ধারা…
- সাধারণ সময়কাল
- নির্দেশক হিসেবে, ঢাকায় বিচারে দেড় থেকে ৪ বছর, এরপর হাইকোর্ট বিভাগে আপিলে আরও ২ থেকে ৫ বছর
- কে মামলা করতে পারেন
- কেবল সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি, তাঁর লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য (সাইবার সুরক্ষা…
সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রক্রিয়া: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · মামলা দায়েরের আগেকোন আইন প্রযোজ্য তা যাচাই করুন
বাংলাদেশে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রক্রিয়ায় প্রথম প্রশ্ন হলো, ঘটনাটি কোন আইনের আওতায় পড়ে। ২১ মে ২০২৫-এর পরের আচরণ সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর আওতায় পড়ে। এই আইনে রয়েছে হ্যাকিং, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে আক্রমণ, ম্যালওয়্যার, সাইবার জালিয়াতি ও প্রতারণা, সাইবার সন্ত্রাস, অবৈধ ই-লেনদেন, অনলাইনে ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন ও শিশু যৌন নিপীড়নমূলক উপাদান, এবং সহিংসতায় উসকানি দেয় এমন অনলাইন ধর্মীয় বা জাতিগত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য। অনলাইন মানহানি এবং পুরোনো আইনগুলোর অন্যান্য বেশিরভাগ বক্তব্য-সংক্রান্ত অপরাধের আর অস্তিত্ব নেই। সাইবার উপাদান ছাড়া সাধারণ প্রতারণা বা মানহানির বিচার হয় দণ্ডবিধি (Penal Code) অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ দিন · আইন: সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ১৭-২৭; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৫০; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৫১ · কাগজপত্র: পোস্ট বা ঘটনার তারিখ, আগের জিডি বা মামলার কাগজপত্র, যদি থাকে
পরামর্শ: অনলাইন জুয়া একসময় আইনের ধারা ২০-এ ছিল, কিন্তু ২০২৬ সালের ৯৯ নং আইন দ্বারা জুলাই ২০২৬-এ তা বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই নতুন মামলা এই ধারায় সাজাবেন না।
ধাপ ২ · মামলা দায়েরের আগেডিজিটাল সাক্ষ্য সংরক্ষণ করুন
ডিজিটাল সাক্ষ্য দ্রুত হারিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর উচিত ইউআরএল, অ্যাকাউন্টের নাম, তারিখ ও সময় দেখা যায় এমন পূর্ণ-পর্দার স্ক্রিনশট নেওয়া, লিংকগুলো সংরক্ষণ করা, মূল ডিভাইসটি রেখে দেওয়া এবং কষ্টদায়ক হলেও চ্যাট মুছে না ফেলা। অন্তরঙ্গ ছবি বা শিশুদের সংশ্লিষ্ট কোনো উপাদান পুলিশ ছাড়া আর কাউকে ফরোয়ার্ড করা উচিত নয়। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক কোনো সেবাদাতাকে সর্বোচ্চ ৯০ দিন তথ্য সংরক্ষণের আদেশ দিতে পারেন, যা ট্রাইব্যুনাল ১৮০ দিন পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। ক্ষতিকর কনটেন্ট বিটিআরসির মাধ্যমে অপসারণ বা ব্লক করা যায়, তবে যেকোনো অপসারণ তিন দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে অনুমোদন করতে হয়।
কোথায়: জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব · সময়: অবিলম্বে; ১-৭ দিন · আইন: সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৮; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৬; সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬৫খ · কাগজপত্র: ইউআরএল ও সময়সহ স্ক্রিনশট, মূল ফোন বা কম্পিউটার, প্ল্যাটফর্মে রিপোর্টের রেফারেন্স নম্বর
পরামর্শ: প্ল্যাটফর্মেও অ্যাকাউন্টটির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করুন। প্ল্যাটফর্মের রেফারেন্স নম্বর পরে পুলিশকে কনটেন্টটি শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
ধাপ ৩ · দায়ের ও ২৪ ঘণ্টার যাচাইপুলিশের কাছে এজাহার দায়ের করুন
কেবল সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি, তাঁর লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কেউ, অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা মামলা শুরু করতে পারেন। অন্যের বক্তব্য নিয়ে তৃতীয় পক্ষের মামলা ঠেকাতেই এই বিধান করা হয়েছে। ধারা ১৭, ১৮(১)(গ), ১৯, ২১, ২২, ২৩ ও ২৫-এর অপরাধ আমলযোগ্য (cognizable), তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এজাহার রেকর্ড করে তদন্ত শুরু করেন। আমল-অযোগ্য অপরাধে, যেমন ধারা ২৬-এর অনলাইন বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে, তদন্তের জন্য পুলিশের ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ লাগে। ঢাকায় স্থানীয় থানায় এজাহার রেকর্ডের পর অভিযোগগুলো প্রায়ই ডিএমপির বিশেষায়িত সাইবার ক্রাইম ইউনিট দেখে।
কোথায়: থানা বা ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট · সময়: একই দিন থেকে ১ সপ্তাহ · আইন: সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪০(১); সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৬(১); ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)-এর ধারা ১৫৪; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৫ · কাগজপত্র: লিখিত এজাহার, প্রতিনিধি দায়ের করলে ক্ষমতাপত্র, সাক্ষ্যের প্রিন্টআউট, জাতীয় পরিচয়পত্র
পরামর্শ: লিখিত ক্ষমতাপত্র ছাড়া কোনো আত্মীয় বা সংগঠন ভুক্তভোগীর পক্ষে মামলা করতে পারে না। ক্ষমতাপত্র না থাকলে মামলা খারিজ হয়ে যেতে পারে।
ধাপ ৪ · দায়ের ও ২৪ ঘণ্টার যাচাইঅথবা সরাসরি সাইবার ট্রাইব্যুনালে নালিশ করুন
পুলিশ মামলা রেকর্ড করতে অস্বীকার করলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সাইবার ট্রাইব্যুনালে লিখিত নালিশ দায়ের করতে পারেন, সঙ্গে একটি হলফনামা দিতে হয় যে তিনি পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন এবং পুলিশ অস্বীকার করেছে। ট্রাইব্যুনাল নালিশকারীকে পরীক্ষা করেন। সন্তুষ্ট হলে কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন; না হলে তৎক্ষণাৎ নালিশ নামঞ্জুর করেন। ট্রাইব্যুনাল তাঁর এখতিয়ারভুক্ত কোনো অপরাধের তথ্য পেয়েও পদক্ষেপ নিতে এবং পুলিশকে অনুসন্ধান করতে বলতে পারেন। তবে পুলিশ বা যৌথ তদন্ত দলের লিখিত প্রতিবেদন ছাড়া ট্রাইব্যুনাল অপরাধ আমলে (cognizance) নিতে পারেন না।
কোথায়: সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: দায়েরে ১ দিন; আদেশে ১-৪ সপ্তাহ · আইন: সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪০(২)-(৪); আইসিটি আইন, ২০০৬-এর ধারা ৬৮ · কাগজপত্র: নালিশি দরখাস্ত, পুলিশের অস্বীকৃতি-সংক্রান্ত হলফনামা, সাক্ষ্যের সংকলন
পরামর্শ: আপনি যে সত্যিই পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন তার প্রমাণ সংযুক্ত করুন, যেমন জিডি নম্বর বা তারিখযুক্ত চিঠি। হলফনামাটি খুঁটিয়ে দেখা হয়।
ধাপ ৫ · দায়ের ও ২৪ ঘণ্টার যাচাইম্যাজিস্ট্রেটের ২৪ ঘণ্টার যাচাই
সাইবার জালিয়াতি (ধারা ২১), অনলাইনে ব্ল্যাকমেইল ও যৌন হয়রানি (ধারা ২৫) এবং অনলাইন বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের (ধারা ২৬) মামলায় দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশকে মামলার নথি এবং গ্রেপ্তার হওয়া যেকোনো ব্যক্তিকে আমলগ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে হয়। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগ ও আনুষঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা করেন; সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা তাঁর আইনজীবী উপস্থিত থাকলে তাঁদের বক্তব্য শোনেন। ভিত্তি থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের আদেশ দেন; না থাকলে কারণ লিখে মামলা খারিজ করেন এবং আটক কাউকে তৎক্ষণাৎ মুক্তি দেন। বাংলাদেশে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রক্রিয়ায় এই সুরক্ষাব্যবস্থা নতুন।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (আমলগ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট) · সময়: দায়েরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে · আইন: সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩১(৩)-(৪) · কাগজপত্র: মামলার নথি, প্রেরণ প্রতিবেদন (ফরোয়ার্ডিং রিপোর্ট), সাক্ষ্যের সারসংক্ষেপ
পরামর্শ: আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উচিত একটি সংক্ষিপ্ত লিখিত নোট নিয়ে এই প্রথম শুনানিতে উপস্থিত থাকা। দুর্বল মামলা খারিজ করানোর এটিই প্রথম সুযোগ।
ধাপ ৬ · গ্রেপ্তার, জামিন ও তদন্তগ্রেপ্তার, হাজির ও রিমান্ড
আমলযোগ্য অপরাধে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারে। হ্যাকিং বা গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে আক্রমণের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য হারানোর আশঙ্কা থাকলে কারণ লিপিবদ্ধ করে পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট বা ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির করতে হয়। পুলিশ রিমান্ডের জন্য কারণসহ আবেদন লাগে, এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭-এর ২০২৫ সালের সংশোধনী (২০২৬-এ অনুমোদিত) অনুযায়ী মোট পুলিশ হেফাজত পনেরো দিনের বেশি হতে পারে না। অন্যান্য ক্ষেত্রে তল্লাশি পরোয়ানা নেওয়া হয় ট্রাইব্যুনাল, মুখ্য মহানগর হাকিম (CMM) বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (আমলগ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট) · সময়: গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে · আইন: সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৪; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৫; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭ (২০২৬ সালে সংশোধিত); সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৩ · কাগজপত্র: জব্দ তালিকা, প্রেরণ প্রতিবেদন, রিমান্ডের আবেদন
পরামর্শ: জব্দ করা প্রতিটি ফোন বা ল্যাপটপের জব্দ তালিকার কপি চেয়ে নিন। তালিকায় না থাকা ডিভাইস পরে ফেরত পাওয়া কঠিন।
ধাপ ৭ · গ্রেপ্তার, জামিন ও তদন্তজামিন
২০২৬ সালের আইন প্রতিটি অপরাধের জন্য আলাদাভাবে জামিনের বিধান ঠিক করেছে। গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো হ্যাকিং, ধারা ১৮(১)(গ)-এর হ্যাকিং, ম্যালওয়্যার ও তথ্য-সংক্রান্ত অপরাধ, সাইবার প্রতারণা ও সাইবার সন্ত্রাস জামিন-অযোগ্য। সাধারণ অননুমোদিত প্রবেশ, সাইবার জালিয়াতি, অবৈধ ই-লেনদেন, অনলাইনে ব্ল্যাকমেইল ও যৌন হয়রানি এবং অনলাইন বিদ্বেষমূলক বক্তব্য জামিনযোগ্য, তাই বন্ড দিলে জামিন পাওয়া অধিকার। জামিন-অযোগ্য অপরাধে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৭ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট বা সাইবার ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নেন। ম্যাজিস্ট্রেট নামঞ্জুর করলে দায়রা আদালতের ক্ষমতাসম্পন্ন সাইবার ট্রাইব্যুনালে, এরপর হাইকোর্ট বিভাগে আবার আবেদন করা যায়। উপযুক্ত ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আগাম জামিন পাওয়া যায়।
কোথায়: সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: ১ দিন থেকে ৬ সপ্তাহ · আইন: সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৬(২); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৬; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৭; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪২(২) · কাগজপত্র: জামিনের আবেদন, এজাহারের কপি, জামিননামা ও জামিনদারদের এনআইডি
পরামর্শ: অভিযোগে ঠিক কোন উপধারা উল্লেখ করা হয়েছে তা যাচাই করুন। ২০২৬ সালের আইনে একই ধারায় জামিনযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য দুই অংশই থাকতে পারে।
ধাপ ৮ · গ্রেপ্তার, জামিন ও তদন্ততদন্ত
বাংলাদেশে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রক্রিয়ায় তদন্ত করেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে নিয়ে যৌথ তদন্ত দল গঠন করতে পারেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিভাইস ও তথ্য নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে, সেবাদাতাদের কাছে ট্রাফিক ডেটা চাইতে এবং সনদপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিতে পারেন। সেবাদাতারা সহযোগিতা করতে বাধ্য। কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হয়। তত্ত্বাবধায়কের অনুমোদনে তা ১৫ দিন এবং ট্রাইব্যুনালের অনুমতিতে আরও ৩০ দিন বাড়ানো যায়। শুধু কারিগরি কারণে ট্রাইব্যুনাল এর বেশি সময় দিতে পারেন।
কোথায়: থানা বা ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট · সময়: বাস্তবে ৩-৬ মাস · আইন: সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩১(১)-(২); সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩২; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৩; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৮ · কাগজপত্র: কেস ডায়েরি, প্ল্যাটফর্মের কাছে তথ্যের অনুরোধ, বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন
পরামর্শ: বিদেশি প্ল্যাটফর্মের কাছে অনুরোধে প্রায়ই কয়েক মাস লেগে যায়। পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ লাগবে কি না, তা আগেভাগেই তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জেনে নিন।
ধাপ ৯ · গ্রেপ্তার, জামিন ও তদন্তডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা
জব্দ করা ডিভাইস ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখানে তথ্যের একটি ইমেজ তৈরি করে বার্তা, আপলোড, লগইন রেকর্ড ও মুছে ফেলা ফাইল বিশ্লেষণ করা হয়। আইনের অধীনে সংগৃহীত ফরেনসিক সাক্ষ্য সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য, এবং ল্যাবে প্রস্তুত ডিজিটাল ফরেনসিক সাক্ষ্য সংরক্ষণ করতে হয়। কী জব্দ করা হয়েছে, তা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত আদালতকে জানাতে হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাধারণত হেফাজতের ধারাবাহিকতা (chain of custody) যাচাই করেন: ডিভাইস কখন জব্দ ও সিলগালা করা হয়েছিল, কে তা নাড়াচাড়া করেছেন এবং হ্যাশ ভ্যালু মেলে কি না। এই ধারাবাহিকতায় ফাঁক থাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারে আসামিপক্ষের সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তিগুলোর একটি।
কোথায়: জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব · সময়: ১-৪ মাস · আইন: সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৩(৪); সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৩; সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৪৫ · কাগজপত্র: ফরেনসিক প্রতিবেদন, হ্যাশ ভ্যালুর রেকর্ড, হেফাজতের ধারাবাহিকতার ফরম
পরামর্শ: ভুক্তভোগীর উচিত শুধু স্ক্রিনশট নয়, মূল ডিভাইসটিই জমা দেওয়া, যাতে ল্যাব উৎস যাচাই করতে পারে।
ধাপ ১০ · গ্রেপ্তার, জামিন ও তদন্তপুলিশ প্রতিবেদন: অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন
তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তের নাম ও ধারা উল্লেখ করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন, অথবা অভিযোগ প্রমাণিত না হলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। পুলিশ বা যৌথ দলের এই লিখিত প্রতিবেদন ছাড়া সাইবার ট্রাইব্যুনাল কোনো অপরাধ আমলে নিতে পারেন না। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আপত্তি থাকলে নালিশকারী নারাজি দরখাস্ত দিতে পারেন, এবং তখন ট্রাইব্যুনাল অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারেন। অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে যার বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য পাওয়া যায়নি, সেই অভিযুক্তকে আগেভাগেই অব্যাহতি দেওয়া যায়। প্রতিবেদনে যদি দেখা যায় মামলাটি জেনেশুনে মিথ্যা দায়ের করা হয়েছিল, তবে দায়েরকারী সেই একই শাস্তির মুখোমুখি হন যা তিনি অভিযুক্ত অপরাধের জন্য দাবি করেছিলেন।
কোথায়: সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: শুনানি: ১-৩ মাস · আইন: সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪০(৪); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ক; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ২৮ · কাগজপত্র: অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন, নারাজি দরখাস্ত, ফরেনসিক প্রতিবেদন
পরামর্শ: অভিযোগপত্রটি ফরেনসিক প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলিয়ে পড়ুন। ল্যাব প্রকৃতপক্ষে যা পেয়েছে তার চেয়ে বেশি অভিযোগ আনা একটি সাধারণ দুর্বলতা।
ধাপ ১১ · সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন ও বিচারআমলগ্রহণ, অব্যাহতি বা অভিযোগ গঠন
সাইবার ট্রাইব্যুনালে সভাপতিত্ব করেন একজন দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ, এবং ট্রাইব্যুনাল ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩তম অধ্যায়ের দায়রা বিচার পদ্ধতি অনুসরণ করেন। আমলগ্রহণের পর পাবলিক প্রসিকিউটর মামলা উপস্থাপন করেন এবং আসামিপক্ষ অব্যাহতির পক্ষে যুক্তি দিতে পারে। পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকলে ট্রাইব্যুনাল কারণ লিখে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেন। অন্যথায় লিখিতভাবে অভিযোগ গঠন করে তা পড়ে শোনান এবং অভিযুক্তের জবাব লিপিবদ্ধ করেন। নিষ্পত্তির ১৮০ কার্যদিবসের সময়সীমা শুরু হয় অভিযোগ গঠনের তারিখ থেকে।
কোথায়: সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: আমলগ্রহণের পর ২-৬ মাস · আইন: সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪০(৫); সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪২(২); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫গ; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫ঘ · কাগজপত্র: অব্যাহতির আবেদন, অভিযোগ (চার্জ), পুলিশি কাগজপত্রের কপি
পরামর্শ: ধারা ৪০(১) অনুযায়ী নালিশকারীর মামলা করার এখতিয়ার নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে এই শুনানিতেই তুলুন।
ধাপ ১২ · সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন ও বিচাররাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য
রাষ্ট্রপক্ষ ভুক্তভোগী, তদন্তকারী কর্মকর্তা, জব্দ তালিকার সাক্ষী ও ফরেনসিক পরীক্ষককে সাক্ষী হিসেবে হাজির করে এবং স্ক্রিনশট, প্ল্যাটফর্মের রেকর্ড ও ল্যাব প্রতিবেদন প্রমাণ করে। আসামিপক্ষ প্রত্যেক সাক্ষীকে জেরা করে, বিশেষ করে অ্যাকাউন্টটি আসলে কে চালাতেন, হেফাজতের ধারাবাহিকতা এবং কনটেন্টটি অপরাধের আইনি সংজ্ঞায় পড়ে কি না, এসব বিষয়ে। ট্রাইব্যুনাল কম্পিউটার বিজ্ঞান, ডিজিটাল ফরেনসিক বা উপাত্ত সুরক্ষা বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত নিতে পারেন। আইন অনুযায়ী অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়; বিচারক তা সর্বোচ্চ ৯০ কার্যদিবস বাড়াতে পারেন, এরপর বিলম্বের বিষয়ে বিচারককে হাইকোর্ট বিভাগে প্রতিবেদন দিতে হয়।
কোথায়: সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: ৬-২৪ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫চ; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৪; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৫ · কাগজপত্র: সমন, প্রদর্শনী (এক্সিবিট), বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন
পরামর্শ: অ্যাকাউন্টের মালিকই সবসময় পোস্টদাতা নন। অভিযুক্তকে ডিভাইস ও লগইনের সঙ্গে যুক্ত করে এমন সাক্ষ্যই আসল বিষয়।
ধাপ ১৩ · সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন ও বিচারঅভিযুক্তের পরীক্ষা ও আসামিপক্ষের সাফাই
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল ধারা ৩৪২ অনুযায়ী অভিযুক্তকে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সাক্ষ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। অভিযুক্ত অপরাধ করেছেন এমন কোনো সাক্ষ্য না থাকলে ট্রাইব্যুনাল এই পর্যায়েই খালাসের আদেশ লিপিবদ্ধ করেন। অন্যথায় অভিযুক্তকে সাফাই দিতে বলা হয়; তিনি সাক্ষী বা কাগজপত্র হাজির করতে পারেন, যেমন অ্যাকাউন্ট হ্যাক বা ক্লোন হওয়ার প্রমাণ, কিংবা আসামিপক্ষের ফরেনসিক প্রতিবেদন। এরপর উভয় পক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে এবং পাবলিক প্রসিকিউটর মামলার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।
কোথায়: সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: ১-৪ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪২; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫জ; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫ঝ · কাগজপত্র: সাফাই সাক্ষ্য, লিখিত যুক্তিতর্ক
পরামর্শ: আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল বলে দাবি করলে কবে তা রিপোর্ট করেছিলেন, সেটি দেখান। মামলা শুরুর আগে করা রিপোর্টের গুরুত্ব অনেক বেশি।
ধাপ ১৪ · রায় ও তার পরবর্তী ধাপরায়, ক্ষতিপূরণ ও বাজেয়াপ্তকরণ
ট্রাইব্যুনাল কারণসহ খালাস বা দণ্ডের রায় দেন। শাস্তি নির্ভর করে অপরাধের ওপর: যেমন অনলাইনে যৌন হয়রানিতে সর্বোচ্চ দুই বছর বা ১০ লাখ টাকা, ভুক্তভোগী নারী বা শিশু হলে তা বেড়ে পাঁচ বছর বা ২০ লাখ টাকা, আর সাইবার সন্ত্রাসে সর্বোচ্চ দশ বছর বা ১ কোটি টাকা। ট্রাইব্যুনাল জরিমানা থেকে বা জরিমানার অতিরিক্ত হিসেবে ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন। অপরাধে ব্যবহৃত ডিভাইসও বাজেয়াপ্ত করতে পারেন, যদি না এর মালিক দায়ী না হন। জেনেশুনে মিথ্যা নালিশের বিচার একই ট্রাইব্যুনাল ধারা ২৮ অনুযায়ী করতে পারেন।
কোথায়: সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: যুক্তিতর্কের পর সাধারণত ২-৬ সপ্তাহের মধ্যে রায় · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫ট; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৭; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ২৫; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩০; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৭ · কাগজপত্র: রায়, সার্টিফায়েড কপির আবেদন
পরামর্শ: অবিলম্বে সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন। আপিলের ৬০ দিনের মেয়াদ গণনা শুরু হয় রায়ের তারিখ থেকে।
ধাপ ১৫ · রায় ও তার পরবর্তী ধাপআদালতের সম্মতিতে আপস
কিছু অপরাধ আপসযোগ্য, তবে কেবল ট্রাইব্যুনালের সম্মতিতে। এগুলো হলো ধারা ১৮(১)(ক) ও (খ)-এর সাধারণ ও অপরাধমূলক অননুমোদিত প্রবেশ, ম্যালওয়্যার ও তথ্য-সংক্রান্ত অপরাধ (ধারা ১৯), সাইবার জালিয়াতি (ধারা ২১), সাইবার প্রতারণা (ধারা ২২), অবৈধ ই-লেনদেন (ধারা ২৪) এবং অনলাইনে ব্ল্যাকমেইল বা যৌন হয়রানি (ধারা ২৫)। ধারা ১৮(১)(গ)-এর হ্যাকিং, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে আক্রমণ, সাইবার সন্ত্রাস ও অনলাইন বিদ্বেষমূলক বক্তব্য আপসযোগ্য নয়। পক্ষগুলো যৌথ দরখাস্ত দাখিল করে এবং ভুক্তভোগী সশরীরে মীমাংসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ট্রাইব্যুনাল যাচাই করেন যে আপসটি স্বেচ্ছায় হয়েছে, বিশেষ করে হয়রানির মামলায়।
কোথায়: সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৬(৩); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪৫ · কাগজপত্র: যৌথ আপস দরখাস্ত, মীমাংসার শর্তাবলি, কনটেন্ট অপসারণের অঙ্গীকারনামা
পরামর্শ: কনটেন্ট মুছে ফেলা এবং আর পোস্ট না করার অঙ্গীকারকে মীমাংসার একটি লিখিত শর্ত করুন।
ধাপ ১৬ · রায় ও তার পরবর্তী ধাপদণ্ড, জরিমানা ও আদায়
আপিল না হলে, বা আপিল ব্যর্থ হলে, দণ্ডিত ব্যক্তিকে পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয় এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী জরিমানা আদায় করা হয়; অনাদায়ে কারাদণ্ড। জরিমানার ক্ষতিপূরণ অংশ ভুক্তভোগীকে দেওয়া হয়। বাজেয়াপ্ত ডিভাইস ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হয়। বক্তব্য-সংক্রান্ত কোনো পুরোনো মামলা ধারা ৫০(৪) বা (৫) অনুযায়ী বাতিল হয়ে থাকলে সেই মামলায় দেওয়া দণ্ড ও জরিমানা আইনত বাতিল বলে গণ্য হয়।
কোথায়: সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: তাৎক্ষণিক থেকে কয়েক মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৩; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৬; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩০; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৫০(৪)-(৫) · কাগজপত্র: সাজা পরোয়ানা, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের রসিদ
পরামর্শ: যাঁরা এখনো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীন বক্তব্য-সংক্রান্ত পুরোনো মামলার মুখোমুখি, তাঁদের উচিত মামলাটি ধারা ৫০ অনুযায়ী বিলুপ্ত হয়েছে মর্মে আদালতের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ চাওয়া।
যদি এমন হয়…? সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রক্রিয়া যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
হেরে যাওয়া পক্ষ আপিল করলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি আপিল
২০২৬ সালের আইন আইসিটি আইন, ২০০৬-এর ধারা ৮২ অনুযায়ী সাইবার আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিলের বিধান দিয়েছে। সেই ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়া পর্যন্ত আইসিটি আইনের ধারা ৮৪ অনুযায়ী আপিল যায় হাইকোর্ট বিভাগে, এবং বাস্তবে এটিই পথ; ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালটি গঠিত হয়েছে কি না যাচাই করুন। আপিলে তথ্য ও আইন দুই বিষয়েই পূর্ণাঙ্গ পুনঃশুনানি হয়, এবং হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫৫ মোতাবেক ৬০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হয়। আপিল চলাকালে জামিনের আবেদন সঙ্গে সঙ্গেই করা যায়।
২-৫ বছরসাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪১(২)আইসিটি আইন, ২০০৬-এর ধারা ৮২-৮৪তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫৫ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
খালাসের বিরুদ্ধে আপিল
সাইবার ট্রাইব্যুনালের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারে। নালিশকারী কেবল তখনই আপিল করতে পারেন, যখন খালাসের রায়ে এমন আইনগত ভুল থাকে যার ফলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে; এবং তা ষাট দিনের মধ্যে। দেরিতে আপিল করতে তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী বিলম্ব মওকুফের জন্য বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যাসহ পৃথক দরখাস্ত লাগে।
২-৫ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল, পরিবর্তন বা রদ করেন, এবং মামলাটি আরও এগোতে পারে কেবল আপিল বিভাগের অনুমতি (লিভ) পেলে।
কোনো পক্ষ অভিযোগ গঠন, জামিন বা অন্তর্বর্তী আদেশ চ্যালেঞ্জ করলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশন বা মামলা বাতিলের আবেদন
সাইবার ট্রাইব্যুনালের অন্তর্বর্তী আদেশ, যেমন অভিযোগ গঠন বা অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর, আপিলযোগ্য নয়। ট্রাইব্যুনাল দায়রা পর্যায়ের আদালত হওয়ায় দায়রা জজ এর রিভিশন করতে পারেন না, তাই চ্যালেঞ্জ যায় হাইকোর্ট বিভাগে, ফৌজদারি রিভিশন বা প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের কারণে কার্যধারা বাতিলের (কোয়াশ) আবেদনের মাধ্যমে। আদালত বিস্তারিত তথ্য নয়, বৈধতা ও যথার্থতা যাচাই করেন এবং এর মধ্যে বিচার স্থগিত রাখতে পারেন।
৬-২৪ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক - 2সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা
বিচার আবার শুরু হয় বা শেষ হয়
হাইকোর্ট বিভাগ রিভিশন নামঞ্জুর করলে সাইবার ট্রাইব্যুনালে যেখানে থেমেছিল সেখান থেকে বিচার আবার শুরু হয়। অভিযোগ বা কার্যধারা বাতিল করলে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তের ক্ষেত্রে মামলা শেষ হয়, এবং ট্রাইব্যুনাল আদেশটি লিপিবদ্ধ করেন। আংশিক আদেশে ট্রাইব্যুনালকে অন্য ধারায় নতুন করে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
১-৩ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৪২ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২৭
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলাটি চলমান রাখতে সাইবার ট্রাইব্যুনালে ফেরত যায়, অথবা যে অভিযুক্ত সফল হয়েছেন তাঁর ক্ষেত্রে শেষ হয়।
সাইবার ট্রাইব্যুনাল কি নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন?
- 1সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা
ট্রাইব্যুনালে রিভিউ নেই
সাইবার ট্রাইব্যুনাল রায়ে স্বাক্ষর করার পর করণিক ভুল সংশোধন ছাড়া তা আর রিভিউ বা পরিবর্তন করতে পারেন না। রায় ভুল মনে করলে পক্ষকে আপিল করতে হবে। রিভিউ নামে কোনো দরখাস্ত দিলে তা নামঞ্জুর হবে, এবং এতে ব্যয় করা সময় আপিলের ৬০ দিনের মেয়াদ থেকে বাদ যায় না, তাই আপিলের বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪২(১) - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে রিভিউ
রিভিউ কেবল আপিল বিভাগেই আছে, তাও তার নিজের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে। ফৌজদারি বিষয়ে ভিত্তি হলো নথিতে সুস্পষ্ট ভুল। রায়ের সার্টিফায়েড কপিসহ ত্রিশ দিনের মধ্যে দরখাস্ত দাখিল করতে হয়। রিভিউ পুনঃশুনানি নয়, এবং এ ধরনের দরখাস্ত খুব কমই সফল হয়।
৩-১২ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬, বিধি ১-২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ভুল সংশোধন হয় আপিলে; প্রকৃত রিভিউ আছে কেবল বিচারব্যবস্থার শীর্ষে।
সাইবার মামলায় কি রেফারেন্স পর্যায় আছে?
- 1সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা
ডেথ রেফারেন্স নেই: সর্বোচ্চ শাস্তি দশ বছর
অনুমোদনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স কেবল মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর কোনো অপরাধে মৃত্যুদণ্ড নেই। দায়রা জজের পক্ষ থেকে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা রিপোর্ট করার ফৌজদারি কার্যবিধির পথটিও বাতিল করা হয়েছে। তাই সাইবার মামলায় কোনো রেফারেন্স পর্যায় নেই। এর জায়গায় আছে আইনের বিলম্ব-প্রতিবেদনের বাধ্যবাধকতা এবং হাইকোর্ট বিভাগের তত্ত্বাবধান।
প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৫ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
বিলম্ব প্রতিবেদন ও মামলা স্থানান্তরের ক্ষমতা
১৮০ কার্যদিবস এবং ৯০ দিনের বর্ধিত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না হলে ট্রাইব্যুনালের বিচারককে কারণ লিখে হাইকোর্ট বিভাগে প্রতিবেদন দিতে হয় এবং তিনি বিচার চালিয়ে যেতে পারেন। ন্যায্য বিচার সম্ভব না হলে, বা মামলায় অস্বাভাবিক জটিল আইনগত প্রশ্ন থাকলে, কোনো পক্ষ মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তরের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারে।
১-৬ মাসসাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৫(৩)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগের তত্ত্বাবধানে সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচার চলতে থাকে, অথবা স্থানান্তরের ফলে অন্য ট্রাইব্যুনালে যায়।
হাইকোর্ট বিভাগ পুনর্বিচারের আদেশ দিলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
দণ্ড রদ এবং মামলা ফেরত
হাইকোর্ট বিভাগ যদি গুরুতর পদ্ধতিগত ত্রুটি পান, যেমন প্রস্তুতকারীকে সাক্ষী হিসেবে না ডেকেই ফরেনসিক প্রতিবেদন গ্রহণ, বা ধারা ৩৪২ অনুযায়ী অভিযুক্তকে যথাযথভাবে পরীক্ষা না করা, তবে দণ্ড রদ করে সাইবার ট্রাইব্যুনালে পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারেন। রায়ে বলা থাকে কোন কোন ধাপ আবার করতে হবে।
আপিলের মধ্যেইফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(খ)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৭ - 2সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা
সাইবার ট্রাইব্যুনালে পুনর্বিচার
নথি সাইবার ট্রাইব্যুনালে ফেরত যায়, এবং হাইকোর্ট বিভাগ যে পর্যায় নির্ধারণ করেছেন সেখান থেকে ট্রাইব্যুনাল মামলাটির পুনর্বিচার করেন। এর অর্থ হতে পারে ফরেনসিক পরীক্ষককে আবার তলব করা, মূল ডিভাইস সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা বা আসামিপক্ষের নতুন সাক্ষ্য নেওয়া। অভিযুক্ত সাধারণত একই জামিনে থাকেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল কারণসহ নতুন রায় দেন।
৬-১৮ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪০ - 3হাইকোর্ট বিভাগ
নতুন আপিল
হেরে যাওয়া পক্ষ নতুন রায়ের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারে। এখন বিবেচ্য কেবল পুনর্বিচারের রায়। পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠালে কয়েক বছর বাড়তি লাগে, তাই সম্ভব হলে উভয় পক্ষের উচিত মামলা ফেরত না পাঠিয়ে ধারা ৪২৮ অনুযায়ী আপিল আদালতকেই ঘাটতি সাক্ষ্য গ্রহণের অনুরোধ করা।
২-৪ বছরআইসিটি আইন, ২০০৬-এর ধারা ৮৪ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৮তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পুনর্বিচারের পর নতুন আপিলের মাধ্যমে মামলাটি আবার হাইকোর্ট বিভাগে আসে।
সাইবার মামলা কীভাবে আপিল বিভাগে যায়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের অনুমতি চেয়ে ফৌজদারি পিটিশন (লিভ পিটিশন)
হাইকোর্ট বিভাগে হেরে যাওয়া পক্ষ রায়ের ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি চেয়ে ফৌজদারি পিটিশন দাখিল করেন। খালাসের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল ষাট দিন সময় পান। পিটিশনে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন দেখাতে হয়, যেমন নতুন অপরাধগুলোর অর্থ, বা চলমান মামলার ওপর রহিতকরণের প্রভাব।
১-৩ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪, বিধি ২ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের শুনানি বা অনুমতি নামঞ্জুর
অনুমতি মঞ্জুর হলে অনুমোদিত বিষয়গুলোর ওপর আপিলের শুনানি হয়, এবং আপিল বিভাগের রায় অধস্তন সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। অনুমতি নামঞ্জুর হলে হাইকোর্ট বিভাগের রায় চূড়ান্ত হয়ে যায়। লিভ পিটিশন চলাকালে জামিন বা দণ্ড স্থগিতের আবেদন আপিল বিভাগের চেম্বার জজের কাছে করা যায়।
১-৩ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, কেবল অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী রিভিউ সাপেক্ষে।
সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রক্রিয়া যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
সাজা যা-ই হোক, সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর প্রতিটি অপরাধের বিচার হয় কেবল সাইবার ট্রাইব্যুনালে। নিম্নতর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার নেই, কোনো মূল্যসীমাও নেই। ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা শুধু শুরুর পর্যায়ে সীমিত: ধারা ২১, ২৫ ও ২৬-এর মামলা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই, আটক ও রিমান্ড অনুমোদন, এবং তল্লাশি পরোয়ানা জারি। সাইবার ট্রাইব্যুনাল আইসিটি আইন, ২০০৬-এর ধারা ৬৮ অনুযায়ী গঠিত, এবং দায়রা আদালতের ক্ষমতাসম্পন্ন একজন দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ এতে সভাপতিত্ব করেন। কাগজে-কলমে আপিল যায় সাইবার আপিল ট্রাইব্যুনালে, যার চেয়ারম্যান হবেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য কোনো ব্যক্তি।
সেই ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়ায় আইসিটি আইনের ধারা ৮৪ অনুযায়ী আপিল যায় হাইকোর্ট বিভাগে, যেখানে তথ্য ও আইন দুই বিষয়েই মামলাটির পুনঃশুনানি হয়। অন্তর্বর্তী আদেশ হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন বা কার্যধারা বাতিলের আবেদনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়। বাংলাদেশে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ আপিল বিভাগ, যা অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী অনুমতি দিলে তবেই মামলা শোনে।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- প্রথম দফার আদালতচিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (আমলগ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট) · সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · থানা বা ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট · জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা
১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।
সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাবাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইনের (সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ, ২০২৫, যা সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ প্রতিস্থাপন করেছে; এরপর এটি আইন হিসেবে পুনঃপ্রণীত হয়েছে কি না যাচাই করুন) অধীন অপরাধ এবং আইসিটি আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিচারাধীন মামলার বিচার করে।
ঢাকা জেলা ও দায়রা জাজশিপের অধীনে তালিকাভুক্ত, একজন জেলা ও দায়রা জজ সভাপতিত্ব করেন; সঠিক ভবন প্রকাশিত নয়। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালও আছে। প্রযোজ্য আইন উল্লেখ করার আগে বর্তমান সাইবার আইন যাচাই করুন।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর
৩৬ মিন্টো রোড, ঢাকাঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর; এজাহার এখানে নয়, সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করতে হয়।
জরুরি সেবা: ৯৯৯। মামলা করতে ঘটনাস্থল যে থানার এখতিয়ারে, সেই থানায় যান।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- সাইবার ট্রাইব্যুনাল (Cyber Tribunal)
- আইসিটি আইন, ২০০৬-এর ধারা ৬৮ অনুযায়ী গঠিত একটি বিশেষ আদালত, যেখানে দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ সভাপতিত্ব করেন এবং যা এককভাবে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর অপরাধগুলোর বিচার করে।
- সাইবার আপিল ট্রাইব্যুনাল (Cyber Appellate Tribunal)
- আইসিটি আইন, ২০০৬-এর ধারা ৮২-তে বিধান করা একটি আপিল সংস্থা; এটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত আপিল যায় হাইকোর্ট বিভাগে।
- সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি (Aggrieved person)
- অপরাধে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি; তাঁর লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ কেবল এঁরাই মামলা শুরু করতে পারেন।
- গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো (Critical information infrastructure)
- রাষ্ট্র বা জনসাধারণের জন্য অত্যাবশ্যক ঘোষিত কম্পিউটার ব্যবস্থা, যেখানে অননুমোদিত প্রবেশে সবচেয়ে কঠোর শাস্তি হয়।
- হেফাজতের ধারাবাহিকতা (Chain of custody)
- কে কোনো ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ, সিলগালা, নাড়াচাড়া ও পরীক্ষা করেছেন তার লিখিত রেকর্ড, যা দেখায় যে সাক্ষ্যে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
- হ্যাশ ভ্যালু (Hash value)
- কোনো ফাইল বা ডিস্ক ইমেজের ডিজিটাল আঙুলের ছাপ, যা দেখায় কপি করার পর তথ্যে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না।
- ধারা ৫০ অনুযায়ী মামলার বিলুপ্তি (Abatement under s.50)
- ২০২৬ সালের আইনের মাধ্যমে রহিত ২০১৮ ও ২০২৩ সালের আইনের অধীন বক্তব্য-সংক্রান্ত চলমান মামলা ও দণ্ডের স্বয়ংক্রিয় বাতিল।
- যৌথ তদন্ত দল (Joint investigation team)
- জটিল মামলার জন্য ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গঠিত পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির একটি দল।
সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রক্রিয়া: সাধারণ প্রশ্ন
২০২৬ সালে বাংলাদেশে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা কোন আইনে চলে?
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সাইবার নিরাপত্তা আইনে আমার পুরোনো মামলার কী হলো?
ফেসবুক পোস্টের জন্য কি যে কেউ আমার বিরুদ্ধে সাইবার মামলা করতে পারে?
সাইবার মামলায় কি জামিন পাওয়া যায়?
বাংলাদেশে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রক্রিয়া শেষ হতে কত সময় লাগে?
সাইবার ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে কোথায় আপিল করব?
কেউ মিথ্যা সাইবার মামলা করলে কী হবে?
সাইবার মামলা কি আদালতের বাইরে আপস করা যায়?
আইন ও উৎস
- Cyber Protection Act 2026 (Act 81 of 2026), Laws of Bangladesh mirror
- Cyber Protection (Amendment) Act 2026 (Act 99 of 2026)
- Cyber Protection Ordinance 2025 (Ordinance 25 of 2025)
- Information and Communication Technology Act 2006, Bangladesh Laws
- Code of Criminal Procedure 1898, Bangladesh Laws
- Code of Criminal Procedure (Amendment) Act 2026 (Act 11 of 2026)
- High Court Division, Criminal Rule No. 101 (con/A) of 2024: appeals from the Cyber Tribunal under s.84 ICT Act and Article 155 Limitation Act
- Supreme Court of Bangladesh
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।











