যৌতুক মামলার প্রক্রিয়া: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে যৌতুক মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয় যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর অধীনে থানায় এজাহার (FIR) দায়ের করে অথবা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশি দরখাস্ত দিয়ে, আর শেষ হয় এমন একটি রায়ে, যার বিরুদ্ধে দায়রা জজের কাছে আপিল এবং পরে হাইকোর্ট বিভাগে যাওয়া যায়। শুধু যৌতুক দাবির মামলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার হয়; কিন্তু যৌতুকের কারণে মৃত্যু বা গুরুতর জখম হলে মামলা যায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে।
২০১৮ সালের আইনের প্রতিটি অপরাধ আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপসযোগ্য, এবং জেনেশুনে মিথ্যা মামলা করাও নিজেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- কোথা থেকে শুরু
- থানা (এজাহার) অথবা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট / চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত (নালিশি দরখাস্ত)
- মূল আইন
- যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৩৯ নং আইন); নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১১ (২০২৬ সালে সংশোধিত); ফৌজদারি…
- সাধারণ সময়কাল
- নির্দেশক হিসেবে ঢাকায় প্রথম আদালতে দেড় থেকে ৪ বছর, এরপর প্রতিটি আপিল বা রিভিশন স্তরে আরও ১ থেকে ৩ বছর
- কে মামলা করতে পারেন
- স্ত্রী বা তাঁর অভিভাবক বা আত্মীয়, দাবির বিষয়ে জানেন এমন যেকোনো ব্যক্তি, অথবা পুলিশ নিজের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে…
যৌতুক মামলার প্রক্রিয়া: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · মামলা করার আগেসঠিক অপরাধ ও আইন চিহ্নিত করুন
বাংলাদেশে যৌতুক মামলার প্রক্রিয়ায় প্রথম কাজ হলো ঘটনার সঙ্গে কোন আইন মেলে তা ঠিক করা। শুধু যৌতুক দাবি করা, অথবা যৌতুক দেওয়া, নেওয়া বা দিতে সম্মত হওয়া যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ ও ৪-এর অধীনে অপরাধ, যার শাস্তি এক থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড। যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, আক্রমণ বা আহত করা হলে মামলা পড়বে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১১-এর অধীনে। দেনমোহর (Mohrana) এবং আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের দেওয়া সাধারণ বিয়ের উপহার ধারা ২(খ)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী যৌতুকের মধ্যে পড়ে না।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ দিন · আইন: যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২(খ); যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩-৪; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১১; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৭-১৭৯ · কাগজপত্র: কাবিননামা বা বিবাহ সনদ, প্রতিটি দাবির লিখিত ঘটনাক্রম, বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্র
পরামর্শ: প্রতিটি দাম্পত্য বিরোধকে যৌতুক মামলা বানাবেন না। ঘটনায় বিয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রকৃত দাবি দেখা না গেলে মামলা দুর্বল হয় এবং বাদী ধারা ৬-এর অধীনে পাল্টা মামলার ঝুঁকিতে পড়েন।
ধাপ ২ · মামলা করার আগেসাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করুন
যৌতুক মামলার নিষ্পত্তি প্রায়ই মৌখিক সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করে, তাই স্বাধীন সমর্থনমূলক প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। টেক্সট মেসেজ, কল রেকর্ডিং, চ্যাট, ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন এবং হস্তান্তর করা মালামালের তালিকা সংরক্ষণ করুন, সঙ্গে যেসব প্রতিবেশী বা আত্মীয় দাবিটি শুনেছেন তাঁদের নাম রাখুন। ইলেকট্রনিক রেকর্ড মূল ডিভাইসেই রাখা উচিত। সহিংসতা হয়ে থাকলে দ্রুত ডাক্তারি পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। এরপর আইনজীবী একটি স্পষ্ট বিবরণ তৈরি করেন: কে, কী, কখন, কোথায় এবং কার সামনে দাবি করেছিল; কারণ পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে অস্পষ্ট অভিযোগ অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে প্রায়ই বাতিল হয়ে যায়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩, ৫৯-৬৫; সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬৫খ (ইলেকট্রনিক রেকর্ড) · কাগজপত্র: মেসেজ ও কল রেকর্ড, ব্যাংক বা বিকাশ লেনদেনের রসিদ, দেওয়া মালামাল বা নগদ অর্থের তালিকা, সাক্ষীদের নাম ও ঠিকানা, আহত হলে মেডিকেল সার্টিফিকেট
পরামর্শ: যাঁরা সত্যিই দাবির সঙ্গে জড়িত ছিলেন শুধু তাঁদের নামই দিন। নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া যুক্ত করা দূরের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের আদালত প্রায়ই অব্যাহতি দেন।
ধাপ ৩ · এজাহার, নালিশ ও তদন্তথানায় এজাহার দায়ের করুন
যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর অপরাধগুলো আমলযোগ্য (cognizable), তাই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তথ্যটি প্রাথমিক তথ্য বিবরণী বা এজাহার হিসেবে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়াই তদন্ত শুরু করতে হবে। বাংলাদেশে যৌতুক মামলার প্রক্রিয়ায় এটিই সাধারণত প্রথম আনুষ্ঠানিক ধাপ। বাদীর স্বাক্ষরিত বিবরণ থানার রেজিস্টারে তোলা হয় এবং একটি মামলা নম্বর দেওয়া হয়; একই দিনে এর একটি কপি সংগ্রহ করুন। নারী ও শিশু আইনের ধারা ১১-এর অপরাধের ক্ষেত্রে ধারা ২৫ক অনুযায়ী ঘটনা অন্য থানার এলাকায় ঘটলেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঙ্গে সঙ্গে মামলা লিপিবদ্ধ করতে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বাধ্য।
কোথায়: থানা · সময়: একই দিন · আইন: যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৭; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৬; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৫ক · কাগজপত্র: বাদীর স্বাক্ষরিত লিখিত এজাহার, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, সমর্থনমূলক কাগজপত্র ও চিকিৎসার কাগজ
পরামর্শ: স্বাক্ষর করার আগে এজাহারটি পড়ে নিন। প্রথম প্রতিবেদনে অতিরঞ্জিত বা অসংগতিপূর্ণ বিবরণই বিচারের সময় আসামিপক্ষের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়।
ধাপ ৪ · এজাহার, নালিশ ও তদন্তঅথবা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশি দরখাস্ত দাখিল করুন
পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করলে, অথবা বাদী আদালতের তত্ত্বাবধান চাইলে, ঢাকায় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশি দরখাস্ত (সিআর মামলা) দাখিল করা যায়। ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ২০০ অনুযায়ী শপথের ওপর বাদীকে পরীক্ষা করেন, এরপর সমন বা পরোয়ানা জারি করতে পারেন, নালিশ খারিজ করতে পারেন, অথবা ধারা ২০২ অনুযায়ী পুলিশ, পিবিআই বা কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে অনুসন্ধান বা তদন্তের জন্য পাঠাতে পারেন। বাস্তবে আমলগ্রহণকারী আদালত মামলাটি বিচারের জন্য একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠান। বাদীর শপথপূর্বক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ হয়ে নথির অংশ হয়ে যায়, তাই তা দরখাস্তের সঙ্গে মিলতে হবে।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক আদালত) · সময়: দাখিলে ১ দিন; ধারা ২০২-এর অনুসন্ধানে ১-৮ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০(১)(ক); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০০; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০২; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৩; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৪ · কাগজপত্র: নালিশি দরখাস্ত, কোর্ট ফি স্ট্যাম্প, সাক্ষীর তালিকা, সমর্থনমূলক কাগজপত্র
পরামর্শ: পুলিশ যে মামলা নিতে অস্বীকার করেছে তার কাগজপত্র সংযুক্ত করুন। এতে ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত আমলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
ধাপ ৫ · এজাহার, নালিশ ও তদন্তসহিংসতা হলে: ট্রাইব্যুনালের পথ
স্বামী বা তাঁর পরিবার যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটালে, মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করলে বা গুরুতর জখম করলে মামলার বিচার করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, যা জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার আদালত। যৌতুকের জন্য হত্যার শাস্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। ট্রাইব্যুনাল পুলিশ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, অথবা পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করেছে মর্মে হলফনামাসহ নালিশের ভিত্তিতে আমলে নেয়। ২০২৬ সালে যুক্ত এবং ২৫ মার্চ ২০২৫ থেকে কার্যকর ধারা ৩৫ অনুযায়ী, ধারা ১১(গ)-এর অধীনে যৌতুকের জন্য সাধারণ জখম, যার শাস্তি দুই থেকে পাঁচ বছর, তার বিচার করেন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, সাধারণ ফৌজদারি কার্যবিধির পদ্ধতিতে।
তবে এটি কোনো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকলে ট্রাইব্যুনাল দুটির বিচার একসঙ্গে করতে পারে।
কোথায়: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল · সময়: বিচার শেষের লক্ষ্য ১৮০ কার্যদিবস; বাস্তবে ১-৪ বছর · আইন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১১; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৬; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৭(১ক); নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৩৫ (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত) · কাগজপত্র: এজাহার অথবা হলফনামাসহ নালিশ, মেডিকেল সার্টিফিকেট, মৃত্যুর মামলায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন
পরামর্শ: ২৫ মার্চ ২০২৫-এর আগে থেকে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন যৌতুকের সাধারণ জখমের মামলাগুলো সেখানেই থাকবে।
ধাপ ৬ · এজাহার, নালিশ ও তদন্তপুলিশি তদন্ত
একজন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, ধারা ১৬১ অনুযায়ী বাদী ও সাক্ষীদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন, কাগজপত্র বা ফোন জব্দ করেন, এবং ধারা ১৬৪ অনুযায়ী জবানবন্দি বা স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করতে ম্যাজিস্ট্রেটকে অনুরোধ করতে পারেন। ২০২৫ সালে সন্নিবেশিত এবং ২০২৬ সালের সংশোধনী আইনে নিশ্চিত করা ধারা ১৭৩খ অনুযায়ী তদন্ত সাধারণত তথ্য পাওয়ার ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হয়, এবং সময় বাড়াতে হলে আইওকে কারণসহ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে হয়। ট্রাইব্যুনালের মামলার জন্য নারী ও শিশু আইনের ধারা ১৮-এ আলাদা ও আরও কম সময়সীমা আছে।
অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে যে আসামির বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাঁকে ধারা ১৭৩ক অনুযায়ী আগেভাগেই অব্যাহতি দেওয়া যেতে পারে।
কোথায়: থানা · সময়: বাস্তবে ২-৬ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬১; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৪; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ক; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩খ; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১৮ · কাগজপত্র: কেস ডায়েরি, জব্দ তালিকা, সাক্ষীদের জবানবন্দি
পরামর্শ: আইওকে ফোন নম্বরসহ সাক্ষীদের একটি লিখিত তালিকা দিন। আইও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীদের জবানবন্দি না নেওয়ায় অনেক মামলা দুর্বল হয়ে পড়ে।
ধাপ ৭ · গ্রেপ্তার, জামিন ও পুলিশ প্রতিবেদনগ্রেপ্তার ও ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা
অপরাধটি আমলযোগ্য হওয়ায় পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে যাতায়াতের সময় বাদ দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিকে আটকে রাখতে চাইলে পুলিশকে কেস ডায়েরিসহ রিমান্ডের আবেদন করতে হয়। ২০২৫ সালের সংশোধনী এবং তা নিশ্চিত করা ২০২৬ সালের আইন অনুযায়ী কোনো মামলাতেই পুলিশ হেফাজত মোট পনেরো দিনের বেশি হতে পারে না, এবং এর পরের যেকোনো আটক হতে হবে কারাগারে বিচারিক হেফাজতে। যৌতুক দাবির মামলায় রিমান্ডের প্রয়োজন কমই হয়; আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাধারণত এর বিরোধিতা করেন এবং একই শুনানিতে জামিন চান।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক আদালত) · সময়: গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬১; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭ (২০২৫/২০২৬ সালে সংশোধিত); সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৩ · কাগজপত্র: ফরোয়ার্ডিং প্রতিবেদন, কেস ডায়েরি, রিমান্ডের আবেদন, যদি থাকে
পরামর্শ: প্রথমবার হাজির করার সময় আসামির শরীরে কোনো আঘাত থাকলে তা লিপিবদ্ধ করতে আদালতকে অনুরোধ করুন। এতে পরবর্তী অভিযোগের বিরুদ্ধে দুই পক্ষই সুরক্ষিত থাকে।
ধাপ ৮ · গ্রেপ্তার, জামিন ও পুলিশ প্রতিবেদনজামিন শুনানি
২০১৮ সালের আইনের অপরাধগুলো অজামিনযোগ্য (non-bailable), অর্থাৎ জামিন অধিকার নয়, আদালতের বিবেচনার বিষয়। ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগের গুরুত্ব, এজাহারে থাকা প্রমাণ, পালিয়ে যাওয়া বা সাক্ষ্যপ্রমাণে হস্তক্ষেপের ঝুঁকি এবং আসামি নারী, অসুস্থ বা বয়স্ক কিনা তা বিবেচনা করেন; ধারা ৪৯৭-এর শর্তাংশ অনুযায়ী শেষোক্ত বিষয়গুলো জামিনের পক্ষে যায়। ম্যাজিস্ট্রেট জামিন নামঞ্জুর করলে মহানগর দায়রা জজের কাছে এবং পরে হাইকোর্ট বিভাগে নতুন আবেদন করা যায়। যিনি এখনো গ্রেপ্তার হননি, তিনি দায়রা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগের কাছে আগাম জামিন চাইতে পারেন, এবং জামিনের সঙ্গে এখন যুক্তিসংগত শর্তও দেওয়া যায়।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক আদালত) · সময়: ১ দিন থেকে ৪ সপ্তাহ · আইন: যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৭; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৭; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮ (২০২৬ সালে সংশোধিত); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৯(৩) · কাগজপত্র: জামিনের আবেদন, এজাহারের সার্টিফায়েড কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ জামিননামা ও জামিনদারের কাগজপত্র
পরামর্শ: গ্রেপ্তারের অপেক্ষায় না থেকে আসামিদের উচিত আইনজীবী ও প্রস্তুত জামিনের আবেদনসহ আত্মসমর্পণ করা; এতে বোঝা যায় তাঁরা পলাতক নন।
ধাপ ৯ · গ্রেপ্তার, জামিন ও পুলিশ প্রতিবেদনপুলিশ প্রতিবেদন: অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন
তদন্ত শেষে আইও ধারা ১৭৩ অনুযায়ী পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) আসামিদের নাম ও ধারা উল্লেখ থাকে এবং সাক্ষী ও আলামতের তালিকা থাকে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয় অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বা মিথ্যা। চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা কারও নাম বাদ পড়া নিয়ে বাদী একমত না হলে তিনি নারাজি দরখাস্ত দাখিল করতে পারেন। তখন ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিবেদনটি গ্রহণ করতে পারেন, অন্য সংস্থাকে অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারেন, অথবা নারাজিকে নালিশ হিসেবে ধরে সরাসরি আমলে নিতে পারেন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মামলাটি জেনেশুনে মিথ্যা বলা হলে আসামি ২০১৮ সালের আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী মামলা করার কথা ভাবতে পারেন।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক আদালত) · সময়: প্রতিবেদনের শুনানি: ১-৩ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০; যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৬ · কাগজপত্র: অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন, নারাজি দরখাস্ত, দাখিল হলে, সাক্ষ্যের স্মারক
পরামর্শ: ম্যাজিস্ট্রেট চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করার আগেই নারাজি দরখাস্ত দাখিল করতে হবে। শুনানির তারিখের দিকে কড়া নজর রাখুন।
ধাপ ১০ · অভিযোগ গঠন ও বিচারআমলগ্রহণ, অব্যাহতি বা অভিযোগ গঠন
ম্যাজিস্ট্রেট আমলে নেওয়ার পর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকায় একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলায় প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বদলি হয়। অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আদালত নথি বিবেচনা করেন এবং দুই পক্ষের বক্তব্য শোনেন। অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে ধারা ২৪১ক অনুযায়ী আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অন্যথায় ধারা ২৪২ অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে পড়ে শোনানো হয় এবং আসামি নিজেকে দোষী বা নির্দোষ দাবি করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এমন আত্মীয়দের বিরুদ্ধে অস্পষ্ট অভিযোগ সবচেয়ে বেশি বাদ পড়ে এই শুনানিতেই।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক আদালত) · সময়: আমলে নেওয়ার পর ২-৬ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪১ক; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪২; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৩ · কাগজপত্র: পুলিশ প্রতিবেদন ও জবানবন্দি, অব্যাহতির আবেদন, অভিযোগপত্র
পরামর্শ: অব্যাহতির সব যুক্তি এই পর্যায়েই তুলে ধরুন। একবার অভিযোগ গঠিত হলে পরে শুধু রিভিশন বা বাতিলের আবেদনের মাধ্যমে তা চ্যালেঞ্জ করা যায়, যা আরও সময়সাপেক্ষ।
ধাপ ১১ · অভিযোগ গঠন ও বিচাররাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য
রাষ্ট্রপক্ষ বাদী, প্রত্যক্ষদর্শী, আইও এবং কোনো চিকিৎসক থাকলে তাঁকে সাক্ষী হিসেবে ডাকে, এবং কাগজপত্র ও ইলেকট্রনিক রেকর্ড প্রমাণ করে। প্রত্যেক সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার পর আসামিপক্ষ জেরা করে। ঢাকায় বিলম্বের প্রধান কারণ সাক্ষীদের অনুপস্থিতি: আদালত প্রথমে সমন, পরে পরোয়ানা জারি করেন, এবং বারবার অনুপস্থিতির পর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ করে দিতে পারেন। ধারা ৩৩৯গ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের উচিত মামলা পাওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করা, কিন্তু প্রায়ই তা হয় না। তা না হলে হেফাজতে থাকা আসামিকে জামিন দেওয়া যেতে পারে।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক আদালত) · সময়: ৬-২৪ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৪; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৯গ; সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৩৭-১৩৮ · কাগজপত্র: সাক্ষীদের প্রতি সমন, আলামত ও প্রদর্শনী, সাক্ষ্যের লিখিত রেকর্ড
পরামর্শ: সাক্ষীদের তারিখগুলো জানিয়ে রাখুন। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৪ অনুযায়ী আদালত বাদী ও সাক্ষীদের যুক্তিসংগত খরচ দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন।
ধাপ ১২ · অভিযোগ গঠন ও বিচারআসামির পরীক্ষা ও আসামিপক্ষের সাক্ষ্য
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য শেষ হলে ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ৩৪২ অনুযায়ী আসামিকে তাঁর বিরুদ্ধে যাওয়া প্রতিটি প্রমাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন, যাতে তিনি নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা দিতে পারেন। আসামি নিজে না চাইলে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেন না। এরপর আসামিপক্ষ নিজস্ব সাক্ষী ডাকতে বা কাগজপত্র দাখিল করতে পারে, যেমন ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকার প্রমাণ, বা দেওয়া টাকা যে ঋণ বা উপহার ছিল তার প্রমাণ। এরপর যুক্তিতর্ক হয়। আসামিপক্ষ প্রায়ই যুক্তি দেয় যে তালাক বা ভরণপোষণের বিরোধে চাপ সৃষ্টির জন্য মামলাটি করা হয়েছে।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক আদালত) · সময়: ১-৪ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪২; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৪(১); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪০ · কাগজপত্র: আসামিপক্ষের কাগজপত্র, লিখিত যুক্তিতর্ক
পরামর্শ: ধারা ৩৪২-এর অধীনে দেওয়া উত্তর আসামির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায়, তাই আইনজীবীর সঙ্গে বসে উত্তরগুলো প্রস্তুত করুন।
ধাপ ১৩ · রায়, আপস ও কার্যকরকরণরায়: দণ্ড বা খালাস
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কারণসহ রায় দেন। ধারা ৩ বা ৪-এর অধীনে দোষী সাব্যস্ত হলে দণ্ড হবে কমপক্ষে এক বছর এবং অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড। খালাসের ক্ষেত্রে আদালত যদি দেখেন অভিযোগ মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা হয়রানিমূলক, তবে ধারা ২৫০ অনুযায়ী বাদীকে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিতে হবে; আর বাদী যদি জানতেন যে মামলার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই, তবে ২০১৮ সালের আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী আলাদা মামলাও করা যায়। পক্ষগুলো রায়ের সার্টিফায়েড কপি পান, যা যেকোনো আপিলের জন্য প্রয়োজন।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক আদালত) · সময়: সাধারণত যুক্তিতর্কের ১-৪ সপ্তাহ পর রায় · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৫; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৭; যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩-৪; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৫০ (২০২৬ সালে সংশোধিত); যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৬ · কাগজপত্র: রায়, সার্টিফায়েড কপির আবেদন
পরামর্শ: একই দিনে সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন। আপিলের সময় রায়ের তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়, এবং কপি সংগ্রহের সময় বাদ যায় কেবল তখনই, যখন দ্রুত আবেদন করা হয়।
ধাপ ১৪ · রায়, আপস ও কার্যকরকরণআপস (আপস-মীমাংসা)
যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর সব অপরাধ আপসযোগ্য (compoundable), তাই রায়ের আগে যেকোনো পর্যায়ে বাদী ও আসামি মীমাংসা করতে পারেন। পক্ষগুলো যৌথ আপসনামা দাখিল করেন, এবং আপস স্বেচ্ছায় হয়েছে তা নিশ্চিত করতে বাদী সশরীরে হাজির হন। আপসের ফল খালাসের সমান। ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর ধারা ৩৪৫(৮) অনুযায়ী আদালত পক্ষগুলোকে মীমাংসায় সাহায্য করতে বা লিগ্যাল এইড অফিসারের কাছে পাঠাতে পারেন এবং লিখিত চুক্তি নথিতে রাখতে পারেন। নারী ও শিশু আইনের ধারা ১১(গ)-এর অধীনে সাধারণ জখমের মামলাও ধারা ৩৫(২) অনুযায়ী আপসযোগ্য।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক আদালত) · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৭; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪৫; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪৫(৮) (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত); নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৩৫(২) · কাগজপত্র: যৌথ আপসনামা, মীমাংসার চুক্তিপত্র, বাদীর হাজিরা বা হলফনামা
পরামর্শ: যেকোনো অর্থ পরিশোধ বা মালামাল ফেরতের বিষয় লিখিত চুক্তিতে রাখুন এবং আদালতকে তা লিপিবদ্ধ করতে বলুন, যাতে তা কার্যকর করা যায়।
ধাপ ১৫ · রায়, আপস ও কার্যকরকরণদণ্ড, অর্থদণ্ড ও কার্যকরকরণ
আপিল না হলে, বা আপিল ব্যর্থ হলে, দণ্ড কার্যকর করা হয়। জামিনে থাকা দণ্ডিত ব্যক্তিকে পরোয়ানামূলে হেফাজতে নিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। অর্থদণ্ড অস্থাবর সম্পত্তি থেকে বা বকেয়া হিসেবে আদায় করা হয়, এবং তা পরিশোধ না হলে আদালত অনাদায়ে কারাদণ্ডের আদেশ দিতে পারেন। আদালত ধারা ৫৪৫ অনুযায়ী অর্থদণ্ডের একটি অংশ বাদীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার আদেশও দিতে পারেন। ধারা ৫ অনুযায়ী যৌতুকের চুক্তি বাতিল, তাই হস্তান্তর করা মালামাল বা অর্থ পারিবারিক বা দেওয়ানি আদালতে ফেরত চাওয়া যায়।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক আদালত) · সময়: সঙ্গে সঙ্গে থেকে কয়েক মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৩; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৬; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৫; যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫ · কাগজপত্র: সাজা পরোয়ানা, অর্থদণ্ডের রসিদ
পরামর্শ: ফৌজদারি মামলা নিজে থেকে যৌতুক ফেরত দেয় না। মালামাল বা অর্থ উদ্ধারে আলাদা দেওয়ানি বা পারিবারিক আদালতে দাবি করতে হয়।
যদি এমন হয়…? যৌতুক মামলার প্রক্রিয়া যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করলে কী হয়?
- 1মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
দায়রা জজের কাছে ফৌজদারি আপিল
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল যায় দায়রা জজের কাছে; ঢাকায় মহানগর দায়রা জজের কাছে, যিনি নিজে শুনতে পারেন বা অতিরিক্ত দায়রা জজের কাছে পাঠাতে পারেন। আপিল হলো বিচারিক নথির ভিত্তিতে ঘটনা ও আইন দুই বিষয়েই পূর্ণাঙ্গ পুনঃশুনানি। দণ্ডের ৩০ দিনের মধ্যে রায়ের সার্টিফায়েড কপিসহ আপিল দাখিল করতে হয়। আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আপিল আদালত দণ্ড স্থগিত করে জামিন দিতে পারেন, এবং পরে খালাস দিতে, দণ্ড কমাতে, বহাল রাখতে বা পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারেন।
১-৩ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৮ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫৪ - 2মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
খালাসের বিরুদ্ধে আপিল
আসামি খালাস পেলে সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে দায়রা জজের কাছে আপিল করার নির্দেশ দিতে পারে। নালিশি দরখাস্তে শুরু হওয়া মামলায় বাদী কেবল তখনই আপিল করতে পারেন, যখন খালাসের রায়ে এমন আইনগত ভুল থাকে যার ফলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে। বাদীর আপিল খালাসের ষাট দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয়। আদালত বাদীর আপিল গ্রহণ করতে অস্বীকার করলে সরকার পরে আর আপিল করতে পারে না।
১-৩ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(১)(খ)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(২)(খ)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(৩)-(৪)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: দায়রা জজের আপিল রায় ম্যাজিস্ট্রেটের রায়ের স্থলাভিষিক্ত হয় এবং তা কেবল হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
কোনো পক্ষ অভিযোগ গঠন, অব্যাহতি বা জামিনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করলে কী হয়?
- 1মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
দায়রা জজের কাছে ফৌজদারি রিভিশন
বিচার চলাকালে দেওয়া আদেশ, যেমন অভিযোগ গঠন, অব্যাহতি নামঞ্জুর বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ, এগুলোর বিরুদ্ধে আপিল চলে না, তবে ফৌজদারি রিভিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়। দায়রা জজ নথি তলব করে দেখেন আদেশটি সঠিক, বৈধ ও যথাযথ কিনা। রিভিশন ঘটনার পুনঃশুনানি নয়। কোনো পক্ষ একবার দায়রা জজের কাছে রিভিশন করার পথ বেছে নিলে সেই পক্ষের জন্য ওই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
৩-১২ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯কফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৪০ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে মামলা বাতিলের আবেদন
দ্বিতীয় রিভিশন নিষিদ্ধ হওয়ায় দায়রা জজের রিভিশন আদেশে সংক্ষুব্ধ পক্ষ মামলার কার্যক্রম বাতিলের জন্য ধারা ৫৬১ক অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারেন। আদালত তা করেন কেবল আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধ বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে, যেমন যখন অভিযোগগুলো সত্য ধরে নিলেও কোনো যৌতুক অপরাধ প্রকাশ পায় না। কোনো পক্ষ আগে দায়রা জজের কাছে না গেলে হাইকোর্ট বিভাগ ধারা ৪৩৯ অনুযায়ী সরাসরি রিভিশনও শুনতে পারেন।
৬-২৪ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯(৪)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বিচার চলতে থাকে, নয়তো সংশ্লিষ্ট আসামির ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম বাতিল হয়।
বিচারিক আদালত কি নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন?
- 1চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক আদালত)
ম্যাজিস্ট্রেটের রিভিউয়ের ক্ষমতা নেই
সুপ্রিম কোর্টের নিচের ফৌজদারি আদালত নিজের রায় রিভিউ করতে পারে না। যৌতুক মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট একবার রায়ে স্বাক্ষর করলে কেবল করণিক ভুল সংশোধন করা যায়। রায় ভুল মনে করলে পক্ষকে দায়রা জজের কাছে আপিল বা রিভিশন করতে হবে। তথাকথিত রিভিউ আবেদন অরক্ষণীয় হিসেবে খারিজ হয়।
প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে রিভিউ
ফৌজদারি মামলায় প্রকৃত রিভিউ চলে কেবল আপিল বিভাগে, তার নিজের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে। ভিত্তি খুবই সীমিত: নথির ওপর স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ভুল। রায়ের ত্রিশ দিনের মধ্যে সার্টিফায়েড কপিসহ আবেদন দাখিল করতে হয়, এবং এটি দ্বিতীয় আপিল নয়। যৌতুক মামলায় রিভিউ আবেদন বিরল এবং কদাচিৎ সফল হয়।
৩-১২ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১-২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ভুল সংশোধন হয় আপিল বা রিভিশনের মাধ্যমে; প্রকৃত রিভিউ আছে কেবল আপিল বিভাগের স্তরে।
যৌতুকের জন্য হত্যায় মৃত্যুদণ্ড হলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে ডেথ রেফারেন্স
নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল ধারা ১১(ক)-এর অধীনে যৌতুকের জন্য হত্যার দায়ে কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে নথি সঙ্গে সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগে পাঠাতে হয়। ওই বিভাগ অনুমোদন না করা পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা যায় না। দুই বিচারপতির একটি বেঞ্চ সব সাক্ষ্য নতুন করে পরীক্ষা করেন, রাষ্ট্র ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির বক্তব্য শোনেন, এবং দণ্ড অনুমোদন করতে, কমাতে, খালাস দিতে বা পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারেন। দণ্ডিত ব্যক্তির কোনো আপিল থাকলে তা রেফারেন্সের সঙ্গে একত্রে শুনানি হয়।
২-৬ বছরনারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৫-৩৭৬ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল
ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য দণ্ডের ক্ষেত্রে, যেমন যৌতুকের জন্য গুরুতর জখম, আপিল সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যায়, দায়রা জজের কাছে নয়। ২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী আপিল আদেশ বা রায়ের ত্রিশ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয়, আগে যা ছিল ষাট দিন। ধারা ৩৫ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের বিচার করা সাধারণ জখমের মামলায় আপিল যায় দায়রা জজের কাছে। ২০১৮ সালের আইনের অধীনে শুধু যৌতুক দাবির মামলায় কোনো রেফারেন্স পর্যায় নেই।
২-৫ বছরনারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৮ (২০২৬ সালে সংশোধিত)নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৩৫(২) (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ ট্রাইব্যুনালের দণ্ড অনুমোদন, পরিবর্তন বা বাতিল করেন, এবং এরপর মামলা আপিল বিভাগে যেতে পারে।
আপিল আদালত পুনর্বিচারের আদেশ দিলে কী হয়?
- 1মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
দণ্ড বাতিল ও পুনর্বিচারের আদেশ
দায়রা জজ যদি গুরুতর ত্রুটি পান, যেমন অভিযোগ কখনো যথাযথভাবে গঠিত হয়নি, আসামিকে ধারা ৩৪২ অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়নি, বা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য ভুলভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তবে আদালত দণ্ড বাতিল করে উপযুক্ত অধস্তন আদালতে আসামির পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারেন। রায়ে ত্রুটিটি এবং বিচারিক আদালতকে কী আবার করতে হবে তা ব্যাখ্যা করা থাকে।
আপিলের মধ্যেই আদেশফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(খ)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৭ - 2চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক আদালত)
ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নতুন করে বিচার
নথি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফেরত যায় এবং তিনি আপিল আদালতের নির্ধারিত পর্যায় থেকে মামলার পুনর্বিচার করেন। এর অর্থ হতে পারে কেবল কয়েকজন সাক্ষীকে আবার ডাকা বা আসামিকে আবার পরীক্ষা করা। আসামি সাধারণত একই জামিনে থাকেন। এরপর নতুন রায় দেওয়া হয়, এবং ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রত্যাশা থাকে যে তিনি পুনর্বিচারকে অগ্রাধিকার দেবেন।
৬-১৮ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(খ)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৯গ - 3মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
আবার আপিলে
পুনর্বিচারের পর যে পক্ষ হারে, সে নতুন রায়ের ত্রিশ দিনের মধ্যে আবার দায়রা জজের কাছে আপিল করতে পারে। নতুন আপিল কেবল পুনর্বিচারের রায় নিয়েই, আগের রায় নিয়ে নয়। পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠালে এক বছর বা তার বেশি সময় যোগ হয়, তাই সম্ভব হলে দুই পক্ষেরই উচিত আপিল আদালতকে বিদ্যমান নথির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিতে অনুরোধ করা।
১-২ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৮তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫৪
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পুনর্বিচারের পর মামলা আবার দায়রা জজের কাছে ওঠে, এবং সেখান থেকে হাইকোর্ট বিভাগে।
যৌতুক মামলা কীভাবে আপিল বিভাগে পৌঁছায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
আপিল রায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি রিভিশন
ম্যাজিস্ট্রেটের মামলায় দায়রা জজের আপিল রায়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় আপিল চলে না। হেরে যাওয়া পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশন দাখিল করে, যেখানে ঘটনার পূর্ণ পুনঃশুনানি নয়, বরং আইনের ভুল, সাক্ষ্যের ভুল পাঠ বা পদ্ধতিগত অনিয়ম দেখা হয়। রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগ খালাসকে দণ্ডে রূপান্তর করতে পারেন না, তবে পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারেন।
১-৪ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯(৪) - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের অনুমতি চেয়ে ফৌজদারি পিটিশন (লিভ টু আপিল)
হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি চেয়ে ফৌজদারি পিটিশন দাখিল করে। খালাসের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল ষাট দিন সময় পান। অনুমতি দেওয়া হয় কেবল তখনই, যখন আইনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বা গুরুতর অবিচারের বিষয় থাকে। অনুমতি মঞ্জুর হলে আপিলের পূর্ণ শুনানি হয়; নামঞ্জুর হলে মামলা শেষ।
১-৩ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪ বিধি ২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, কেবল অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে রিভিউ সাপেক্ষে।
যৌতুক মামলার প্রক্রিয়া যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
যৌতুক দাবির মামলা শুরু হয় ফৌজদারি আদালতের সর্বনিম্ন স্তরে। এজাহার বা নালিশ যায় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে, আর বিচার করেন একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কারণ সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর। যৌতুকের কারণে মৃত্যু, হত্যাচেষ্টা বা গুরুতর জখমের মামলা যায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে, যার দায়রা আদালতের ক্ষমতা আছে। ম্যাজিস্ট্রেটের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় দায়রা জজের কাছে, যিনি ঘটনা ও আইন দুই বিষয়েই মামলা পুনরায় শোনেন। এরপর দ্বিতীয় আপিল নেই, আছে কেবল আইন ও পদ্ধতির প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশন।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যায়, এবং মৃত্যুদণ্ড সেখানে অনুমোদিত হতে হয়। সর্বোচ্চ স্তরে আপিল বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীনে অনুমতি দিলে তবেই যৌতুক মামলা শোনেন। তাই বাংলাদেশে যৌতুক মামলার প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন বা চারটি স্তর থাকে, এবং প্রতিটি স্তরে সময় বাড়ে।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
- প্রথম দফার আদালতচিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক আদালত) · নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · থানা
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
৪০-৪৫ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগরের থানাগুলো থেকে আসা দায়রা আদালতে বিচার্য অপরাধের বিচার করে এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন শুনানি করে; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজরা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও বসেন।
মহানগর দায়রা জজ বসেন মূল ভবনের ২য় তলায়; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতগুলো মূল ভবনে এবং একই চত্বরের টিনশেড ভবনে। মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা একই সঙ্গে সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের প্রকাশিত হেল্পলাইন: ০১৩৩৫-১৪৫০০২।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা
১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকানারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীন ধর্ষণ, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, নারী ও শিশু পাচার, এসিড-সংক্রান্ত ও অন্যান্য অপরাধের বিচার করে।
ঢাকায় ১ থেকে ৯ নং ট্রাইব্যুনাল আছে; প্রতিটিতে জেলা ও দায়রা জজ পর্যায়ের একজন বিচারক সভাপতিত্ব করেন এবং এগুলো ঢাকা জাজশিপের তালিকাভুক্ত। ঢাকার আদালত এলাকায় এগুলোর সঠিক ভবন প্রকাশিত নয়। প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি এমন ট্রাইব্যুনাল আছে।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
থানা
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- এজাহার (FIR)
- আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪ অনুযায়ী পুলিশ যে প্রাথমিক তথ্য বিবরণী লিপিবদ্ধ করে।
- সিআর মামলা (CR case)
- থানায় নয়, সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশি দরখাস্ত দাখিল করে শুরু হওয়া মামলা।
- আমলযোগ্য (Cognizable)
- যে অপরাধে পুলিশ পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার এবং আদালতের আদেশ ছাড়া তদন্ত করতে পারে।
- অজামিনযোগ্য (Non-bailable)
- যে অপরাধে জামিন স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়, আদালতের বিবেচনার বিষয়।
- আপসযোগ্য (Compoundable)
- যে অপরাধ বাদী আসামির সঙ্গে মীমাংসা করতে পারেন; আপসের ফল খালাসের সমান।
- নারাজি দরখাস্ত (Naraji petition)
- পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীর লিখিত আপত্তি, যাতে অধিকতর তদন্ত বা আমলে নেওয়ার আবেদন করা হয়।
- অভিযোগপত্র (Charge sheet)
- যে পুলিশ প্রতিবেদনে বিচারের জন্য আসামিদের নাম ও অপরাধ উল্লেখ থাকে।
- দেনমোহর (Mohrana / dower)
- বিয়ের কারণে মুসলিম স্বামী স্ত্রীকে যে অর্থ দিতে বাধ্য; যৌতুকের সংজ্ঞা থেকে এটিকে স্পষ্টভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
- ডেথ রেফারেন্স (Death reference)
- মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে অনুমোদনের জন্য তা হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া।
যৌতুক মামলার প্রক্রিয়া: সাধারণ প্রশ্ন
কিছু না দিলেও শুধু যৌতুক চাওয়া কি অপরাধ?
এজাহার করব, নাকি নালিশি মামলা?
যৌতুক মামলায় আসামি কি জামিন পান?
যৌতুক মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে কী হয়?
যৌতুক মামলার প্রক্রিয়া কি আপসে শেষ হতে পারে?
সহিংসতা জড়িত যৌতুক মামলা কোন আদালত শোনেন?
যৌতুক মামলার প্রক্রিয়া শেষ হতে কত সময় লাগে?
ফৌজদারি মামলায় জিতলে কি যৌতুকের টাকা ফেরত পাওয়া যায়?
আইন ও উৎস
- Dowry Prohibition Act 2018 (Act 39 of 2018), Bangladesh Laws
- Nari o Shishu Nirjatan Daman Ain 2000 (Act 8 of 2000), Bangladesh Laws
- Nari o Shishu Nirjatan Daman (Amendment) Act 2026 (Act 85 of 2026)
- Code of Criminal Procedure 1898, Bangladesh Laws
- Code of Criminal Procedure (Amendment) Act 2026 (Act 11 of 2026)
- Dowry Prohibition Act 2018, Laws of Bangladesh mirror
- Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988
- Limitation Act 1908, Bangladesh Laws
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।











